ঢাকা : শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে আহবান প্রধানমন্ত্রীর          নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সকলকে সহযোগিতার আহবান স্পিকারের          প্রশ্ন ফাঁসমুক্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী          তিন হাজার বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে           সালেই বাংলাদেশ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে : মেনন
printer
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:৪৮:৪২আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৪:৪৯:৩২
পঞ্চাশে পুরুষ, মনচাষে পুরুষ
পুলক কান্তি বড়ুয়া


 

পুরুষ সন্ধ্যা-রাতে অফিস থেকে ফিরেই কাপড় চেঞ্জ করতে করতে একবার আয়না দেখে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিআটকে যায় পাকধরা  চুল, মুখভর্তি আধাপাকা দাঁড়ি, নয়তো ক্লিন সেভের ভিতর থেকে অংকুর হয়ে উঠে আসা আধাপাকা দাড়ির দিকে। ভাবুক দৃষ্টিতে দেখে মাথায় চুল খালী হতে শুরু করেছে, ঠিক মাঝখানে গোল হয়ে চুলহীন চাঁদ একটু মাথা নিচু করেই দেখে নেয় পুরুষ। সার্ট খুলে পরখ করে পৌরুষ লোমেও দু একটা পাকনা ভাব দেখা যাচ্ছে। তারপরও আনমনে পুরুষ ভাবে, নাহ এখনো দেহ সুঠাম আছে।কিন্তু একটু হতাশ হয় ভুড়ি দেখে। নিজেকে ভাবতে চায় তরুণ। কিন্তু সব পুনরায়  আয়নায় দেখে একটু হতাশ হয় পুরুষ। এভাবে ভাবতে গিয়ে প্রায়ই লজ্জা পায় পুরুষ মেট্রিক পড়ুয়া ছেলে বা মেয়ের বাবা ডাক শুনে। ছেলেমেয়েরা, মা-বাবার রুমে হুট-হাট ঢুকে পড়ে। এই সময়ের স্নেহের আধুনিক ওরা। বাবাকে মোটেই ভয় পায় না। যত ভয় মাকে।পুরুষ এখানে বড্ড স্নেহময়ী ক্ষমতাহীন। সকালে অফিস থাকে, সেভাবে রাত জাগতে পারে না পুরুষ। নিজের জন্যে কোনো প্রাইভেসি নেই। নিজেকে নিয়ে আলাদা কিছু ভাবার চেষ্টা একপ্রকার অপরাধ মনে হয় পুরুষের। তার ভাবনাজুড়ে মা-বাবা স্ত্রী, সন্তান, আত্নীয়, শ্বশুর বাড়ি, সমাজ, চাকরি, ব্যবসা, ধর্ম,  বাজার, বেড়ানোর আয়োজন ইত্যাদি। এগুলোকে সে তার দায় ও দায়িত্ত্ব ভাবতেই অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে।বরং  নিজের তারুণ্য ধরে রাখার ভাবনা, একটু রুপচর্চা করা, রোমান্টিক কোন সিনেমা বা একটা উগ্র নাচ দেখার গোপন খায়েশ বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। তার নারীর সাথেও একটু খুনশুটি বা একটু ভিন্ন রোমান্স করতে মন চায় ভাবতেই পুরুষ কেমন  অপরাধী হয়ে উঠা চেহারাটা লুকাতে চায় মনের অজান্তেই। কারণ তার নারী তাকে বহুবার ছবক দিয়ে দিয়ে বিশ্বাস  করিয়েছে  ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে, এসব অসভ্যতা তাকে আর মানায়না। অফিস ফেরা সন্ধ্যা থেকে ঘুমুতে যাবার আগ পর্যন্ত প্রতিদিনকার একমাত্র বিনোদন টেলিভিশন দেখা। তাও রাত আটটার পর আর টেলিভিশনের উপর পুরুষের কোনো কর্তৃত্ব থাকে না। বড় কন্যা বা স্ত্রী এসে রিমোট দখল করে। তাদের সাথে অখাদ্য ইন্ডিয়ান বাংলা সিরিয়াল জোর করেই দেখতে হয়। প্রায় প্রতিটি সিরিয়ালে মেরুদণ্ডহীন পুরুষ চরিত্র আর সব সমস্যার সমাধান ও সর্বময় ক্ষমতায় দুর্গামার্কা  নায়িকা। এগুলো  কিছুদিন দেখার পর তার নেশা হয়ে যায়। ব্যস পুরুষটিও কলকাতার বাংলা সিরিয়াল মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। অথর্ব পুরুষ চরিত্র ও মহিমান্বিত নারী চরিত্র দেখতে দেখতে পুরুষ নিজেকে ইন্ডিয়ান বাংলা পুরুষ মনে করা শুরু করে।নিজের অজান্তেই সে অথর্ব মেরুদন্ডহীন পুরুষ হয়ে উঠে তারা নারীর কাছে। সে স্বীকার করে নেয়, তার কোনো সাংসারিক বুদ্ধি নেই। ছেলেমেয়েদের ভবিষৎ নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই।সে পৃথিবীর অন্যতম বোকা পুরুষ।মহাসরল সে। তাকে সবাই ঠকায়, আর সব নিয়ে যায়।আর তার নিজের মনে করা, নারী  নিজেকে ভারতীয় বাংলা দুর্গার অবতার মনে করতে থাকে। সে তার ভাবে ও মুখে প্রায় সরব হয়, সেই নারী তার না হলে কপাল তার খারাপ ছিল। বেঁচে গেছে এই সর্বংসহা নারীকে নিজের করে পেয়ে। যেন এক দয়ার জীবন।ফলে রাতের বাকী সময়টার গজ গজ কর্তৃত্ব তার নারীর। এই দাঁত মাঝছো? উফ কী গন্ধ! এই সন্ধ্যায় মোজা খুলে ভালো করে সাবান দিয়ে পা ধোওনি? কাল ছেলের টিঊশন মাস্টারের টাকা দিতে হবে, আনছো? একটু ওইদিকে যাও না?  দেখি পাটা সরাও তো।শোন আজ মা ফোন করছে, তুমি কবে যেতে পারবা?  জানতে চেয়েছে? নারী নানা কথা বলে চলে।সেই সাথে আয়নার সামনে বসে বিনুনী বানায়। মুখে স্নো মাখে। এই দৃশ্য দেখতে দেখতে কথাগুলোর ঘুম জড়ানো হা-না উত্তর দিতে দিতে সারাদিনের ক্লান্তি কখন যে ঝাকিয়ে বসে তা  পুরুষ বুঝতে না বুঝতেই নাক ডাকতে থাকে। তারপরো ঘুমের ঘোরে শুনে, এতো কেমনে ঘুমাইতে পারো। উফফ এতো জোরে নাক ডাকছো কেন? এই শুনছো… এভাবেই সকাল হয়।তার নারী গৃহলক্ষী।তার পরে ঘুমিয়ে; উঠে তার আগে। ঘড়-দোড় সব ঝাড় দেয়। নাস্তা বানায়, ধর্ম কর্ম করে, শ্বশুর শাশুড়ির সেবা করে। ছেলে মেয়েদের ঘুম থেকে তুলে নাস্তা করে টিফিন তৈরী করে গাদা গাদা খাতা বই ব্যাগে পুরে তাদের স্কুলে পাঠায়। ঘুম ভাঙা আলসি শরীর জড়ানো বিছানায় শুয়ে পুরুষ নিজেকে বড্ড ভাগ্যবান মনে করে, এমন লক্ষী  পয়মন্ত নারী তার জীবনে এসেছে।ভাবতে ভাবতেই রুদ্র মুর্তী নিয়ে হাজির তার নারী।এখনো উঠ নাই?  বিছানা গোছাও। লুংগী ঠিক কর।কিচ্ছু ঠিক থাকে না।ঘড়ে বুয়া আসছে। এ রুমে ঝাড়ু দেবে, উঠো।তারাতারি। নারী তার বিদ্যুৎ। একবার রান্নাঘর, একবার ফ্রীজ, একবার বাথরুম।খুব দ্রুত তার দুর্গা। সত্যিই দুর্গা। সকাল আট্টার আগেই দুপুরের রান্না শেষ করে, ঘরের পুরুষের টিফিন ক্যারিয়ার গুছিয়ে, নিজের নাস্তা শেষ করে, নিজের টিফিনবক্স সাজায়। পুরুষের আড়মোড়া ভাংগার আগেই পুনরায় বাথরুমে ঢুকে পরে, দশ মিনিটেই বের হয়ে, আয়নার সামনে বসে ভেজা চুলে আচর দিতেই, তার ঝাপ্টা পড়ে পুরুষের গায়ে, সৎ করে উঠে সমস্ত শরীর। নারী তার তৈরি হচ্ছে, অফিসে যাবে। নয়টার ভিতর বের হবে। তার ব্যস্ততা বিছানায় শুয়েই টের পাচ্ছি। আবার হুংকার। এই অফিসে যাবা না, আমি গেলাম, তোমার খানা গোছানো আছে, দুপুরে খবরদার বাইরে খাবে না। আমি গেলাম। ইস আজো দেড়ী হয়ে গেছে… বলতে বলতে নারী চলে গেছে। ঘর এখন শুনশান নীরব।ছেলে মেয়ে নারী সবাই চলে গেছে।মা বাবার হাক ডাক শুনা যাচ্ছে, দূর থেকে। এরি মধ্যে পুরুষ উঠে। কয়েকদফা ফোনে কথা বলে।সব জরুরী কাজের ফোন।অফিসের ফোন। পুরুষ অফিসের শীর্ষ বস। হাল্কা রাজকীয় ভাব শুন্য ঘরে মন থেকে শরীরে আসতে থাকে। সব কাজ শেষে যখন ঘড় থেকে বেড়োয় তখন বেলা সাড়ে নয়। দশটায় পৌঁছলেই হলো। একটু দেরী হলেও বলার কেউ নেই।নাহ পুরুষ এবার নিজেকে রাজা ভাবতে শুরু করে, চেহারা পরিবর্তন হতে শুরু হয়। গাড়িতে উঠেই একটা সিগারেট ধরায় পুরুষ। বেশ আয়েশী ভংগীতে সিগারেট টানতে টানতে পত্রিকায় চোখ রাখে, তার ছবি ও সংবাদ উঠেছে গতকালের এক সামাজিক অনুষ্ঠানের। তার রাজা ভাবটা আরো গভীর হয়ে উঠে।অফিসে পৌঁছে যায় দ্রুত।শুরু হয় দেশী বিদেশী নানা মিটিং। নামকরা মাল্টিন্যশনাল কোম্পানি। হরেক রকম কাজ। হরেক রকম  মানুষ সাক্ষাৎকার প্রত্যাশী। ব্যস্ত সময় কখন যে দুপুর গড়িয়ে যায়, টের পায় না। ব্রিলিয়ান্ট কর্মপটু পুরুষ।নারী তার অফিস কাজের অবসরে এরি মাঝে ফোন দেয়। এই ভাত আনছিলা? খাইছো? কখন ফিরবা বাসায়। আসার সময় বাজার করে আনবা। আমি মেসেজ করতেছি, কি কি আনবা লিখে দিচ্ছি। তুমি আবার ভুলে যাবা। পুরুষ তার সামনে বসা, হাই অফিসিয়ালদের সামনে হঠাৎ সাধারণ হয়ে যায়। বেকুব বেকুব চেহারা হয়ে যায়। মোবাইলে আচ্ছা, হা-হু করেই রেখে দেয়। আবার ফোন। এই ফোন কাটলা কেন। কি কর।ব্যস্ত, বলেই পুরুষ দ্রুত তার রাজ ভাব ফিরিয়ে আনতে মনোযোগী হয়। এর মধ্যে বাইরে থেকে ফোন আসে।সব ফেলে পুরুষ বেড়িয়ে পরে দ্রুত। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ফাইভস্টার হোটেলে ফরেইন ডেলিগেট। খাওয়ার সুযোগ হয় না। সব শেষ করতে, রাত আটটা বেজে যায়।এরি মাঝে তার নারী আরো দুবার ফোন করে।কিন্তু তখন ধরা হয়নি। বাড়ীর পথ ধরেই আগে তার নারীকে কল ব্যাক করে। দুবার কল করার পর তার কন্যা ধরে। বাবা এইটা-ওইটা আনবা। মা কে দিচ্ছি। ঝাঁঝালো গলা, কই ছিলা, ফোনে পাই না। শোনো আলু, পেঁয়াজ, ডিম, চা পাতি মনে করে আনবা। কতক্ষণ লাগবে? আবার পুরুষ তার এতক্ষণের সম্মানের রাজকীয় আবেশ থেকে ক্রমশ আলু-পেঁয়াজের দিকে ধাবিত হতে থাকে। সব সেরে বাসায় ঢুকে। ততক্ষণে দশটা। রুমে ঢুকে। বেডরুম ততক্ষণে সিনেমা হল। সেই ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালের শ্বাসরুদ্ধ ক্রাইছিস। কেউ পুরুষের দিকে তাকাচ্ছেই না। রুমে জায়গা নেই। বাথরুমে ঢুকে প্যান্ট খুলে, জাংগীয়ায় হাত দিতেই, মনে হলো পুরুষ লুঙ্গি ছাড়া বাথরুমে  ঢুকেছে। ঐ অবস্থায় পুরুষ হাত মুখ ধোয়। পরিছন্ন হয়। এবার লুঙ্গি দরকার।বাথরুম থেকে বার কয়েক হাক দিয়েও, সারা মিললো না।মিলবেও না।এখন সবাই সিরিয়াল আসক্তিত্তে আছে। বাথরুমেই পাক্কা দশমিনিটের টয়লেট জেল কাটিয়ে পুরুষ লুঙ্গী পায় দরজার ছোট ফাঁক গলিয়ে।
 
দুপুরে খাওয়া হয়নি। পুরুষ ক্ষুধার্থ। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভাত দেয়ার কথা বললে, উত্তর হবে বেড়ে খাও। অগ্যতা পুরুষ কোন আশা না করে, চুপচুপ রান্নাঘরে যায়। এই পাতিল, ওই পাতিল খুঁজে তরকারীর খিচুরি মানে মাছ, ডাল, ভাজি সব একসাথে একবারে নিয়ে ডায়নিংয়ে বসে খেয়ে নেয় ছটফট।খাওয়া শেষ হতে না হতেই, তার নারী এসে হাজির। এই খেয়ে ফেলছো। আমি এইটা বানাইছি, নিছ? কই নাতো?  পরে এনে দেয় তার নারী তার তৈরিকৃত  বিশেষ রেসিপি। বাহ মজাতো।হুর হুর করে ছেলে মেয়ে বাবা এসে হাজির ডায়নিং টেবিলে।ভরে উঠে টেবিল জোয়ারের মতো। বাচ্চারা কিচির মিচির। নারী নানা পদের খানা এনে টেবিল ভরায়। পুরুষের বাবা নানা বৈষয়িক বিষয় এর অবতারণা ঘটায়।পুরুষের মাথায় কিছুই ঢুকে না। বাবা উম্মা প্রকাশ করে, পুরুষের ভবিষৎ চিন্তায়। পুরুষ নিজ থেকে উঠে নিজের রুমে ঢুকে। শো ভেঙ্গেছে কিছুক্ষন আগে, সব এলোমেলো। তবু সস্থি একা কিছুক্ষণ টিভি দেখা যাবে। কি আশ্চর্য রিমোট খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুরুষ ব্যস্ত হয়ে উঠে। হাঁকডাক করলেও কেউ কান দিচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর তার নারী আসে। হাতে রিমোট। চ্যানেল  পরিবর্তন হতে পারে ভেবেই, রিমোট দখলে রাখা। এখন নতুন আরেকটি সিরিয়াল। অগ্যতা নারীর সাথে তাই দেখা। পুরুষ এই সিরিয়ালে দেখে, নারী তার পুরুষকে দুর্বৃত্তের হাত থেকে রক্ষা করছে।ইতিমধ্যে দুর্বৃত্তরা পুরুষ নায়কের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আর নায়কের নায়িকা একাই সান্ডা গোছের গোটা তিনেক মস্তানকে মেরে রাস্তায় ফেলে, নায়ক পুরুষকে নিয়ে মন্দিরে দেয় ছুট। সেখানে দেবতার সামনে সিঁদুরের প্রতিজ্ঞা  করলো আর একটা ভক্তিমুলক গান গাইলো। ব্যাস পুরুষ নায়ক হাত পা নাড়তে শুরু করলো। পরের ঘটনা পরের দিন। অপেক্ষা করতে হবে কাল পর্যন্ত। পুরুষ সিরিয়ালটি বিশ্বাস করতে লাগলো।কিন্তু সমস্যা হলো তার নারী তো সিঁদুর দেয় না। তাহলে তার নারীর কথা তো দেবতা শুনবে না।সাহস করে, আহ্লাদী গলায় পুরুষ তার নারীকে বলে, এই তুমি একদিন সিঁদুর দাও না, দেখি কেমন লাগে?  আহা! ধুর এই সব একদম ভালো লাগে না। হিন্দুরা যে কেন মাথা ভর্তি সিঁদুর দেয় বুঝি না। মেয়ে উচ্চস্বরে মা মা  ডাকছে। নারী সেইদিকে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে গেলো।পুরুষ এবার একা। রিমোটও হাতে পেলো। এতেই মহা খুশী। প্রিয় চ্যানেল ডিসকভারী দিতেই, দেখে বয়সী যৌন জীবন বিষয়ে গবেষনা ধর্মী সিরিয়াল ‘সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডার ইন মিডল এইজ’। দারুণ। হাল্কা ঝাপ্সা ন্যুড দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ভয় কাজ করছে পুরুষের। সেই তরুণ বয়সের ভয়, যদি মা বাবা  দেখে? এখন এখানে যদি ছেলে মেয়ে এসে পড়ে? উষ্ণতা অনুভব করছে। ঠিক এই সময় হুরমুর করে মেয়ে ঢুকলো। পিছন পিছন তার নারী। আচমকা ঘটনায় চ্যানেল চেঞ্জ করতে করতে মেয়ে দেখলো। দৃশ্যটি চুম্বনের ছিল। পুরুষ ভয়ানক লজ্জায় কাচুমাচু চেহারায় মুখ লুকাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।মেয়ে চলে গেলে, তার নারী দরজা বন্ধ করে। পুরুষ আবার চ্যানেলে ফিরে যাবে কি যাবে না ভাবছিলো। নারী এসে তীব্র চোখে পুরুষের দিকে তাকায়,সেই চোখ তিরস্কার করছিলো, ছি-ছি-ছি। তুমি এই বয়সে? কোনো ইজ্জত শরম নেই তোমার, ছি।পুরুষের সমস্ত উষ্ণতা হীম শীতল ঘুমের দিকে নিয়ে চললো, আত্নস্লাঘায়।পুরুষ নির্জন, একা, অন্ধকার রুম।নারী পাশে শুয়ে মাত্র ঘুমিয়ে পড়েছে। পুরুষ ছুঁতে চাইলো। সর… ।একটি শব্দে পুরুষ ছিটকে দূরে চলে আসে।আজ পুরুষের চোখে ঘুম আসে না। যন্ত্রনা হয়।তীব্র যন্ত্রনা। কন্যা দেখেছে তার বাবা চুমু দেয়া ছবি দেখছে? কি লজ্জা?  বিপন্ন বোধ করে পুরুষ।
 
 
 
একটি নির্ঘুম রাতের সামনে আজ পুরুষ মুখোমুখী পঞ্চাশে
শুরু হয় পুরুষের মনচাষ-
সে তার দুরন্ত তারুণ্যের স্কুল, কলেজ, বিশববিদ্যালয় জীবনের প্রেম ভালোবাসা চুম্বন আর শীর্ষ উত্তেজনার স্মৃতির দিনগুলীর কথা ভাবতে শুরু করে।
পুরুষের মনে পড়ে প্রথম প্রেমের প্রথম অনুভুতির সমুদ্রসফেন এফিটাফে রুদ্দুরের দিনগুলির কথা। একেবারে বাল্যে না জানা প্রেম শীলা, কৈশোরের ফুফাতো খালাতো বোনদের প্রেমে পড়ে প্রথম চিঠি লেখা জয়া, টিংকু, শিউলীর কথা। সে এক অত্যাশ্চর্য ব্যখ্যাহীন টগবগ ভাললাগা। সেদিন সেই পুরুষ প্রথম ভালোবেসেছিলো ফুল, নীল আকাশ, সবুজ ঘাস, রোদেলা পুকুর, গাছ, পাখী।অদ্ভুদ প্রকৃতির প্রেমানুভুতি।সেদিন সে ধারণ করেছিল কৈশোরে কিশোরীর প্রেম। পঞ্চাশে পুরুষ, মনচাষে পুরুষ
কলেজ জীবনে পুরুষ তার প্রথম তারুণ্যের  প্রথম তরুণীর প্রতি একতরফা একা একা প্রেমে পড়ার স্মৃতি মনে আসে। সেই প্রথম তার কোন তরুণী নারীকে নিয়ে লিখে কবিতা। তার মনে পড়ে কলেজে এক বছরের জুনিয়র ইমু নামের তরুণীটিকে ভালোলাগার অনুভুতি, তাকে প্রেম নিবেদনের আকুলতার তীব্র ব্যাকুলতা। সেই প্রথম প্রেম তাকে  করেছিল কবি। লিখেছিলো অনেক কবিতা।প্রথম পরিচয়, প্রথম সৃস্টি, প্রথম বাংলা, প্রথম ব্যকরণ না জানা ভিতর থেকে অনুভুতি নিংড়ে শব্দগুচ্ছ কোন তরুণীর জন্যে কোন তরুণের লেখা কবিতা। সে প্রেম তাকে দিয়েছিল কবিসত্তা। অবলিলায় কবিতা লেখার প্রাকৃতিক শব্দ গাঁথুনী। জন্মেছিল কবিতার জন্যে ভালোবাসা। সেদিন থেকে  সে ভালোবাসে কবিতা। মুক্তি ঘটে ক্রিতদাসত্তের। সেই মেয়েকে কখনো বলা হয়নি, ভালোবাসি। অথচ নিজের অন্তর্ভুবনে সে বহুকাল প্রিয়া হয়ে স্বপ্ন হয়ে লিখেছে কবিতার পর কবিতা। পুরুষ আজ যে মোহন ভাষা ধারণ করে তার জন্ম সেই তরুণী ইমুর প্রতি নিঃস্বার্থ প্রেম থেকে। পুরুষ আরো ভাবতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে সে সেই প্রেমের কবি। সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠা কবি। তার ভাষা, তার প্রেম নিবেদনের পংক্তি ততদিনে ইমুর জন্যে লিখতে লিখতে কখন যেন হয়ে উঠে সে জাত কবি। তার অসংখ্য বন্ধু, বড় ভাই, ভক্ত জুটে যায়। নীরবে নিভৃতে ওরা আসে তাদের প্রেমিকার জন্যে, বা তরুণী কে প্রেম নিবেদনের জন্যে চিঠি লিখিয়ে হিসেবে। সেই প্রথম প্লেটোনিক প্রেমের সাথে তার পরিচয় ঘটে। অদেখা নারী, অচেনা নারী, সিনিয়র বা জুনিয়র নারী, কে, কখনো শুধু ছবি দেখে একেকজনের জন্যে একেক ধরনের প্রেমপত্র লেখক হিসেবে পুরুষ অর্জন করে নানা মাত্রিক নারীর মনোজগতের বর্ণিল চিত্র।চিঠি লেখা ও উত্তর দেবার ক্ষেত্রে প্রতিবারই প্রবেশ করতে হয়েছে গভীর অনুভবে, হতে হয়েছে অন্তরীক্ষের প্রকৃত প্রেমিক। অন্যের বাস্তব চোখে দেখা প্রেমিকা, মনোভূমে তার প্রকৃত প্রেমিকা। ঔ নারীর উৎপন্ন সকল মানসিক ভালোবাসার  প্রেমিক সে।আর সকলের সামনে ঘুরে বেড়ানো, সাধারণ দৈহিক উত্তাপের প্রেমিক দৃশ্যমান প্রেমিক। এখানে পুরুষ অদৃশ্য, তাকে ঐ প্রেমিকা চিনে না, জানে না। এখানেই একটি প্রেম মনোভূমিক বা প্লেটনিক অন্যটি দৈহিক বা ফ্রয়ডীয়। ফলে এমন নারী যাদের সে প্রতি রাতে ছবি দেখে বা গল্প শুনে কল্পনায় তৈরী করতো প্রেম। তারপর হ্রদয় নিংড়ে কল্পনার নারীকে লিখতো প্রেম পত্র।প্রেমের সমস্ত নির্যাস, সমস্থ প্রেম অনুভূতি ছিল তার।যা দিয়ে সে লিখতো অনিন্দ্য প্রেম পত্র। এগুলোর উত্তর আসতো, আবার লিখতো। এ ভাবে ক্যাম্পাসের আপা হয়ে যেতো রাতে প্রিয়া। আবার তার উত্তর পেয়ে সারারাত সে উজাড় করা ভালোবাসার সমস্ত অনুভূতি নিয়ে লিখতো। শুধু ইতিতে নাম থাকতো বড় ভাই এর বা  অন্যে কোন সহপাঠী বন্ধুর, যারা ছিল মূলত দৈহিক বা ফ্রয়ডিয় প্রেমিক। তাদের সেই প্রেম ছিল নারীকে পাবার উগ্র বাসনাময়, সেই ভালোবাসা বা প্রেম ছিল যৌনতার রাজনীতি।তাই যৌন বিজ্ঞানী ফ্রয়েড তার গবেষণায় দেখিয়েছে লাভ ইস দ্যা পলিটিক্স অব লাভ। যখন কোন পুরুষ দৈহিক সৌন্দর্যের কামে আক্রান্ত হয়ে প্রেমে পরে তা ঐ নারীকে চিরস্থায়ী পাবার শর্তে নির্ণিত হয়।অর্থাৎ ফ্রয়েডীয় প্রেমের চূড়ান্ত পরিণতি পারস্পরিক দাসত্তের বিয়ে। নারী-পুরুষ সেখানে পারস্পরিক সম্পদ বা দাস-দাসী বা নির্দিষ্ট পুরুষ-নারী। উভয়ের অলিখিত চুক্তি পারস্পরিক যৌনসুখ নিশ্চিত করতে বাধ্য থাকবে। পরস্পর মূলত যৌন সঙ্গী এবং এ জন্যেই দেখা যায় শর্ত পালনে অক্ষমতা যে কারো হলেই, প্রেম নিভে যায়। হন্তারক ও পরস্পর বিয়ের সামাজিক বিশ্বাস ভঙ্গ করে।কারণ এই স্বার্থান্ধ থেকেই উৎপন্ন হয়েছিল প্রেম ও ভালোবাসা। পক্ষান্তরে স্বার্থবিহীন নি:স্বার্থ মনোভূমিক প্রেম  পুরুষকে দিয়েছিল ৩৯ নারীর প্লেটনিক অনুভূতিজাত মহাজাগতিক শক্তির সন্ধান। সেই প্রথম পুরুষ আবিষ্কার করেছিল প্রেম এক মহাজাগতিক শক্তি। প্রেম নি:স্বার্থ, প্রেম সৃষ্টিময়, প্রেম দয়ার, প্রেম ত্যাগের, প্রেম শুধু দিতে জানে নিতে চায় না, প্রেম নি:স্বর্গ, প্রেম প্রকৃতি, প্রেম নি:শব্দ, প্রেম শ্রদ্ধার, প্রেম দেহে নয় মনে, প্রেম অসীম, প্রেম বাধা ও বন্ধনহীন, প্রেম অজেয়, প্রেম আত্নহননের নয়- হাজার বছর বেঁচে থাকার, প্রেম বিচ্ছেদের আগুনে পোড়ানো খাঁটি সোনা, প্রেম আত্নজ, প্রেম কবিতায়, প্রেম সুরে, প্রেম সত্যে, প্রেম মানবিকতায়, প্রেম জ্ঞানে।প্রেম ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, বিভেদ, সাদা কালো, দেশ, কাল, সীমানা ও বৈষম্যহীন অন্তরালোকের দীপ্তি। প্রেম চির তরুণ। প্রেম সময় ও বয়সের ভারে নুজ্য নয়। সে আরো জেনে যায় পৃথিবীর প্রত্যেক নারী পরস্পর আলাদা, প্রত্যেকেই এক একজন মহাজাগতিক গ্রহ। একেক গ্রহের একেক ধরনের গ্রহশক্তি রয়েছে। আর এ  জন্যেই একেক নারী একেক পুরুষ এর জন্যে শুভ বা  অশুভ হয়ে থাকে। সব নারী সব পুরুষকে  গ্রহণ বা বর্জন কর‍তে পারে না। প্রাচীন ঋষিরা এই মনোভূমিক নারীর প্রেম চর্চা বা সাধনা থেকেই নারী ও পুরুষের শ্রেণিভেদ আবিষ্কার করেন ও মিলন বা বিবাহের ক্ষেত্রে নারীর গ্রহ অবস্থান অনুসারে পুরুষ নির্ধারণ, বিয়ের লগ্ন স্থীর,  জন্মকুষ্টি এর প্রচলন করেন। নারীর মাঝে লুকিয়ে থাকা এই গ্রহশক্তি পুরুষ চিরতরে নিজের করে নেয়ার প্রবণতা থেকেই নারীর বহুবিবাহতে বাধা দেয়। কিন্তু পুরুষ নিজে বহুবিবাহ করে। প্রাচীন অধিকাংশ রাজা বা পৃথিবীর আজকের উন্নত সভ্য ইউরোপ সভ্যতার বিকাশের প্রাক্কালে নারী পুরুষ উভয়কে বন্ধুত্ব বা প্রেমের ক্ষেত্রে অবারিত স্বাধীনতা প্রদান করে। ইসলাম ধর্মের ব্যাপক ও দ্রুত প্রসারে পুরুষের বহু বিবাহের মাধ্যমে শক্তি অর্জনই অন্যতম কারণ ছিল। কৃষ্ণের ২৮ হাজার প্রেমিকা বা উপ-পত্নি, পরকীয়া পত্নী বা ৯০০ গোপিনী নারী সঙ্গের যে বিষয়টি বলা হয়, তা পুরোপুরি মনোভূমিক। প্লেটনিক। শিবলিঙ্গ এর ধারণা এই মহাজাগতিক শক্তি ও উৎসের ধারণারই প্রতিরূপ। প্রাচীন ঋষীরা ও হালের সুফীরা বা বাউল বা বৈষ্ণবরা সুর বা ধ্বনিতে বা ধ্যানের একপর্যায়ে এই মনোভূমিক প্রেমের জগৎ অন্তর জগতে সৃস্টি করেন।হাজার হাজার নারী তার কল্পনায় ঈশ্বরী হয়ে প্লেটনিক মাতৃভালবাসায় ও ভক্তিতে প্রেম নিবেদন করেন। সে হয়ে উঠে ঈশ্বর এর প্রতিরূপ। ঈশ্বর ও ঈশ্বরী মিলে সৃষ্টির প্রকাশ, বিকাশ ও দৃশ্যমান অনন্ত শক্তির প্রতীক হয়ে উঠে এবং একের পর এক নারী-পুরুষ মনোজগতে তৈরী হতে পারে বলে বির্যপাত রুদ্ধ করতে ব্রহ্মচার্য প্রথা সাধনার প্রথম স্তর হিসেবে নির্ধারিত করেন। ব্রহ্মাচার্য্য মানে অনেকে মনে করেন বিয়ে না করা ও  পুরুষ বা নারী সংস্পর্শ না করাকে। আসলে তা নয়।নারীর বা পুরুষের দেহকে ভোগ চেতনায় কামনায় বীর্যপাত বা অর্গাজম ঘটানোকে অব্রহ্মাচার্য বলা হয়। তাই প্রাথমিক সাধক/সাধিকাকে মনোজাগতিক জগৎ তৈরী হতে সহজ করার জন্যে বিশেষত পুরুষকে  নারী থেকে সম্পূর্ণ বিমুক্ত ও দূরে, এমনকি তার ছায়া ও স্পর্শ থেকেও দূরে থাকার কঠোরতা প্রদান করা এবং নারীকে অশুচী, তার ঋতুকে ও রক্তস্রাবকে চরম অশুচি হিসেবে সাধককে শিখানো হয় মুলত  বৃহৎ অর্জনে সহায়তা করার জন্যে। আসলে নারী এক বিশুদ্ধ ও জন্মসৃস্টি করার অসীম ক্ষমতা সম্পন্ন মহাজাগতিক গ্রহ। তার রক্তস্রাব এতোই পবিত্র যে ঐ স্রাব ছাড়া মহাশক্তি দুর্গা ও কালীর পুজা হয় না, ঐ স্রাব না হলে জীবন বা মানব সৃস্টি হয় না।এই স্রাব অসুচী হলে এই পৃথিবীর সকল মানব জাতি অসুচী। তাই ঐ স্রাব মিশ্রিত কাপড় ছাড়া অন্য কোন কাপড়ে মহাশক্তি কালীকে বাধ্য ও বাধা দেয়া যায় না। এর উত্তাপ এতো বেশী যে এর উপর কোন অদৃশ্য দেবতা বা ফেরেস্তা বসতে পারে না। এটাই নারীর গ্রহ শক্তির দৃশ্যমান প্রকাশ। এই রক্তস্রাব তৈরী হয় ত্রিবেনী সংগম পূর্ব স্রোত থেকে।অর্থ বুঝাতে বলা হয় গঙ্গা-যমুনা-সরস্বতী এই তিন  নদীর মিলন স্থানকে ত্রিবেনী সংগম বলে। তেমন নারীর নাভীমূলে ইরাবতী, পিংগলা ও সুষ্মুমা নামে তিনটি ধারা মাসের দশদিন প্রবাহিত হয় এবং ত্রিবেনী সংগম বা যোনী মুখ বা মানব জন্মস্থান এর পবিত্র দুয়ার।যা রক্ত স্রাব বা জন্মস্রাব বা মাসিক নামে পরিচিত। তিনটি নামে তিন ধারা এক সাথে মিশে ঠিক উল্লেখিত তিন নদীর মিলনস্থল এর মতো  উৎপন্ন হয় এবং দেখা যায় ত্রিবেনী সংগমে স্নান করলে ও পানি পান করলে শরীরে ৩৩ ধরনের মারাত্নক ব্যধি দূর হয় বা হতে পারে না।প্রাচীন কালের মানুষ নানা রোগ উপশম করেছে এর মাধ্যমে এবং তারা দীর্ঘায়ু ছিলেন। সাধকের সহজে কোন রোগ না হবার ও প্রতিরোধ করার প্রক্রিয়াও এটি। এতে পুরুষ নারীর গ্রহ শক্তি গ্রহণ বা অর্জন  করতে পারে না। মিলিত শক্তি তখন নতুন জন্ম সৃস্টি করে। যাকে মানুষের বংশাক্রম বলে। কিন্তু সাধক এই শক্তি নিজের কাছে ধারন করার জন্যে, বীর্যপাত ঘটান না কিন্তু নারীর অন্তর্জগত এ প্রবেশ করেন। যা প্রেম ও মনোভূমিক নিয়ন্ত্রণ। এই নিয়ন্ত্রল আনন্দকে অস্বীকার  করে নয়, বরং দীর্ঘ আনন্দলাভ  ও অসংখ্য নারী বা গ্রহের শক্তি ও তাদের গুণগুণ জানার অদম্য নেশা যখন সাধককে পেয়ে বসে তখন এই ক্ষুদ্র গ্রহ পৃথিবীর কোন মায়া, আনন্দ, নারী তার কাছে খুব তুচ্ছ বিষয়ে পরিণত হয়। তখন সে শুধু এই পৃথিবী নামক গ্রহে যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন পর্যন্ত মুক্ত, নিস্পৃহ ও সিদ্ধী পুরুষ হিসাবে বেঁচে থাকে তার স্তর লাভ বা শক্তি অর্জন অনুযায়ী কত গ্রহে বিচরণ করতে পারবে তা নির্ভর করে। মানে স্বপ্নে ও কল্পনায় নারীর মাতৃপ্রেম অনুভূতির এতো চরমস্তরে সে প্রবেশ করতে পারে যে বাস্তব নারী পুরুষের প্রেম ও মিলন ঐ মনোভূমিক অনুভূতির তুলনায় অতিনগণ্য মাত্র। এই অনুভূতি কেবল নারী সৃষ্টির পর নিষ্পাপ শিশুকে স্ত্যনদান করার সময় লাভ করে। তখন নারীর কাছে ঐ অনুভূতির আকর্ষণ এতো তীব্র ও প্রবল যে শিশুসন্তান একদিকে আর বাকী পৃথিবী আরেকদিকে। এই স্ত্যনদানের সময় তার যে আনন্দ ও মায়া প্রাপ্তি ঘটে তা সাধারণ  নর- নারীর মৈথুন ও প্রেমের আনন্দের চেয়ে ৮০ লক্ষ গুণ বেশী। নরমালী চিন্তা করলেই বুঝা যায়, যে স্ত্যন পুরুষ মুখে নিলে নারী চরম উদ্দীপ্ত হয়, একই স্ত্যন সন্তান মুখে নিলে অনুভূতি সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং নারী উন্মাদিনী হয়ে উঠে এবং যে পুরুষের প্রেম ও মায়ায় নারী পিতামাতা পর্যন্ত ত্যাগ করতে কুন্ঠিত হয় না, সেই একই নারী  সন্তান প্রশ্নে ঐ পুরুষকে অবলিলায় ত্যাগ করতে পারে। ঠিক এই ব্যাপারটি সাধকের জীবনে মনোদৈহিক চেতনায় ঘটে, ফলে সে নারী, সংসার সব ত্যাগ করে বনে জঙ্গলে একাকি নিভৃত জীবন কাটিয়ে দিতে সক্ষম হয়। বির্য্য নিজের ভিতর ধারন করে রাখে বলে তার ভিতর মারাত্নক শক্তি জমা হয়। সে একটি হাতিকেও শুধু আঙুল এর সামান্য স্পর্শে মেরে ফেলতে পারে। তার উপর ওইশক্তির প্রভাবে সাপের বীষ, বিচ্ছুর বীষ কিছুই কাজ করে না। এই ধরনের শক্তি শরীরে থাকলে অন্যান্য শক্তিমান প্রানী যেমন- বাঘ, হাতী, অজগর, অদৃশ্য প্রানীরা প্রাকৃতিক কারণে বুঝতে পারে। তখন তারা ঐ সাধকের সামনে পড়লে বসে পড়ে ও লেজ গুটিয়ে পিছনে সরতে সরতে চলে যায়। ফলে সাধক বনে নিরাপদ থাকে।মূলত সে অসংখ্য গ্রহশক্তি মনোজগতের মাধ্যমে লাভ করে। এই গ্রহশক্তি একেক নারীর মধ্যে এক এক রকম থাকে। কারণ প্রত্যেকটি নারী পরস্পর আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই পুরুষের ৩৯ জন প্লেটনিক তরুণীর প্রেম পুরুষকে ছোটখাট  ঋষিতুল্য ক্ষমতা তৈরী করে দিয়েছিল। ভিন্ন ভিন্ন নারীদের সাথে গভীর মনোজাগতিক প্রেম করতে গিয়ে সে হয়ে উঠে অদ্ভুদ ক্ষমতা ও  ব্যক্তিত্বসম্পন্ন রুচিবোধ সম্পন্ন হিরো। ইচ্ছে হলেই সে জয় করতে পারতো যে কোন বয়সের যে কোন নারীর মন জয়। ব্যাস নারী তার প্রেমে পরল তো আর তাকে শারিরীক অস্তিত্বে কোন ধরা সে দিত না। এভাবে বাস্তবের চেয়ে কল্পনার নারী তার কাছে অনেক প্রিয় হয়ে উঠে। ফলে বাস্তবে নারীর প্রতি প্রেমের আসক্তি সে হারায়।এর মধ্যে একদিন তার রুমমেট আমান এক সদ্য ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা ফ্যাশন গার্ল নীলার গভীর প্রেমে পরে। কিন্তু উঁচুমানের সংস্কৃতমনা নীলা এতোটাই অহংকারী ও কনফিডেন্ট গার্ল ছিল যে সে আমানকে লেজে গোবরে বেইজ্জত করে ছেডে দিল। আমান এক আহত বাঘের মতো রুমে ফিরে এসে তাকে ধরল প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে।মানে যে কোন উপায়ে নীলাকে প্রেমে ফেলতে হবে।
 
এই ফাঁদে পা দিতেই পুরুষ তার অর্জিত সকল শক্তি ও চেতনার প্রথম সর্বনাশ ঘটায়। খেলতে গিয়ে উল্টো নীলাই তাকে ফেলে দে প্রেমের মৃত্যু ফাঁদে। কারণ আমান ছিল ভয়িংকর নেতা। তাই তাকে জব্দ করতে তার ওস্তাদের বারোটা বাজানো ছিল নীলার মুল খেয়াল। এই প্রথম নীলার সাথে মনস্তাত্ত্বিক গেমে হারতে শুরু করে সে। কারণ নীলার ছিল ধারনার বাইরে কাব্য দখল। সে খেলে এসেছে আনিসুল হক, মিনার মাহমুদ, দুরদানা (সিরাজ সিকদারের বোন শামীম?) এর মতো কালজয়ী প্রেম খেলুরেদের সাথে।মানে তাদের সাথে আগেই উঠা বসা করে উন্নত সংস্কৃতির ছোঁয়া।এসব তো আর সে জানতো না।ফলে চরম ধরা খেলো সে। হয়ে গেলো তার টিউশন মাস্টার। এটা ওটা সংগ্রহ করে দেবার পিয়ন।দূর দুরান্তে এডভাঞ্চারাল ভ্রমণের আয়োজক, পকেটের টাকা খরচ করে বিকেলের টিফিন খাওয়ানোর একাউন্ট্যান্ট।কি হলো জানা হয় না, হারিয়ে যেতে থাকে নিজের অন্তর্জগৎ এর বিশাল ভুবন। হারিয়ে যেতে থাকে সাফল্য। ফিরে আসে লৌকিক আধারে। অজান্তেই প্রেমে পড়ে। শুরু হয় দুর্দান্ত টাইটানিক জীবন। জীবনে কামে মোহে এই প্রথম পুরুষ হাত বাড়ায় নীলার হাতে। নিস্পৃহ ভোগের জীবন থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে। ক্ষমতার জন্যে এই প্রথম সে আকর্ষণ বোধ করে, যোগ দেয় বিস্রী ছাত্র রাজনীতিতে। সংসদ, কুটনীতি, দলাদলি, নেত্রিত্বের আসন দখল করার মাস্টার মাইন্ড হয়ে উঠে নীলা। ক্রমশ খুব বড় নেতা হওয়া শুরু করে সে। খুব অল্প সময়ে সে সবাইকে টপকে উঠে আসে শীর্ষে। একক আধিপত্য গড়ে উঠে। হয়ে উঠে আনপ্যরালাল জনপ্রিয়, ক্ষমতাশালী বিখ্যাত ছাত্র নেতা। যে পুরুষের নেতা ছিল আমান, সেই আমানদের অস্থিত্ত্ব কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। সেই পুরুষের সমস্ত ক্ষমতা বিস্তার জনপ্রিয়তা সত্যিকারের রানী এলিজাবেথ এর মতো ভোগ করতো, নীলা। পুরুষ নিজের অজান্তেই কামজ প্রেমের দাস হয়ে মূলত ঐ নারীর সেনাপতি, বডিগার্ড, নিরাপত্তারক্ষি হিসেবে প্রেমিক নামে কাজ করতে থাকে এবং আজ সে জানে ও বুঝে যে প্রেমের উৎস কাম চেতনা, আগ্রহ চুমু খাওয়া আর সেখানে প্রায় প্রত্যেক প্রেমিক বেকুব ভৃত্য। বেকুব এই জন্যেই যে সে বুঝেই না সে বদলা দিচ্ছে। নারী তার টার্গেট দাঁড় করায় প্রেম মানে বিয়ে। কারণ সে কামচেতনায় বলদ হয়ে যায়। কিন্তু বলদের চেয়ে একটু ভালো বলদ পেলেই প্রত্যেক কাম নির্ভর প্রেমিক প্রেমিকা উভয়ে দ্রুত বিক্রী হয়ে যায়।এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি, রাজনীতি করা পুরুষের বিপর্যয় আসতেই নীলা হাত বদল করে সুন্দর উদিয়মান নতুন তুর্কীর। বিষাদের সাথে সেই প্রথম পরিচয়। সেই প্রথম সে বুঝে ও জানে যে প্রেমে জ্ঞান, সুর, আলো নেই সেখানে সবুজ দুর্বা ধীরে ধীরে সাদা ফ্যকাশে হয়ে উঠে।সে সেই প্রথম বুঝে যে প্রেমে অন্ধকার,  লুকানো শ্মশান নীরবতা, বদ্ধ ঘর চাহিদা হয়, সে প্রেম কুয়ার ব্যাংগাচীর একচিলতে পৃথিবীর মত।অন্ধ, পঙ্গু, বধির প্রাণসত্তার মানুষ হয়ে কে কবে পেরেছে জীবনজয়ী হতে। কে হয়েছে পৃথিবীর। কে বুনেছে কবে কোথায় কোন নতুন শস্যের বীজ। না পারেনি। একটি ধাক্কা সেদিন পুরুষকে আবার দেখিয়েছিল নতুন পথের নতুন যাত্রাপথ। সে হয়ে উঠে বই পড়ুয়া। শব্দে ও জ্ঞানের ভাজে ভাজে খুঁজতে থাকে হারানো সাম্রাজ্য।নতুন প্রেম খুঁজে পায় রাস্তায়, প্রকৃতির মায়ার কোলে। প্রকৃতি প্রেম তাকে আস্তে আস্তে নতুন সকালের সুবেহ সাদেকের সন্ধ্যান দেয়।শুরু হয় প্রকৃতির পাঠশালায় নিবিড় শিক্ষা।
চলমান -১

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সাহিত্য-সংস্কৃতি পাতার আরো খবর

Developed by orangebd