ঢাকা : সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:৫৫:২৬
নওগাঁয় আমন ধান চাষে ব্যস্ত চাষিরা
নওগাঁ সংবাদদাতা


 


আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন চাষিরা। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে শ্রাবণের ধারা বইতে শুরু করেছে। প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর চাষীরা। তবে একই সাথে কৃষকরা জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও।
আমনের আবাদের জন্য প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিলেন চাষিরা। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে জমিতে আমনের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় হলেও, বৃষ্টি অভাবে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়েছিল। আবার গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে বাড়তি খরচ করে জমি তৈরী করেছিলেন অনেক কৃষক। তবে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর শ্রাবণের আকাশে ঘটেছে মেঘের ঘনঘটা । গত এক সপ্তাহ থেকে প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শ্রাবণের ধারা । জমিতে বেঁধেছে প্রকৃতি থেকে পাওয়া বৃষ্টির পানি। আর এ সুযোগে বৃষ্টির পানিতে আমনের জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। আবার বৃষ্টির পানি বেশি হওয়ায় একটু নিচু প্রকৃতির জমি তলিয়ে গেছে। প্রয়োজনের তুলনায় জমিতে পানি বেশি হওয়ায় পানি নিষ্কাষনের জন্য অপেক্ষা করছেন কৃষকরা। তবে একই সাথে জমি চাষাবাদের কারণে বেড়েছে শ্রমিকের মজুরিও। আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে জমিতে চারা রোপনের কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে চাষিরা।
জেলার মহাদেবপুর  উপজেলার গোপালকৃষ্ণ পুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এতোদিন বৃষ্টির অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ করে এক সপ্তাহ থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এজন্য ১৮ বিঘা জমি বৃষ্টির পানিতে হালচাষ করে প্রস্তুত করে আমনের আবাদ করবেন। এজন্য ব্যস্ততাও বেড়েছে। তবে একই সাথে সবাই জমিতে চারারোপন শুরু করায় মজুরি  বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে বিঘা প্রতি ৬০০-৬৫০ টাকা হলেও এখন ৮০০ টাকা মজুরি।
বৃন্দারামপুর গ্রামের কৃষক গোলাম সারোয়ার বলেন, খরার কারণে জমি প্রস্তুত করা সম্ভব হচ্ছিল না। গত এক সপ্তাহ আগে গভীর নলকুপ থেকে পানি নিয়ে জমিতে হালচাষ শুরু করলে বৃষ্টি শুরু হয়। জমি একটু নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বেশি হওয়ায় চারা রোপন করা সম্ভব হচ্ছেনা। পানি কমলেই চারা রোপণ শুরু হবে।
শ্রমিক লোকমান বলেন, তার দলে নারীসহ আট জন শ্রমিক আছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে কাজের চাপ বেড়েছে। সাথে মজুরিও। প্রতিবিঘা ৮০০ টাকা চুক্তিতে জমিতে চারা রোপন করছেন।
সদর উপজেলার ফারাদপুর  গ্রামের কৃষক অাব্দুল মান্নান বলেন, বৃষ্টির অপেক্ষাই থেকে শ্যালোমেশিনের পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হয়। এরপরই বৃষ্টি শুরু। শুধু বাড়তি খরচ গুনতে হলো। আমনের আবাদে প্রতি বিঘাতে প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়। তবে অনাবৃষ্টি হলে খরচ আরো বেশি হয়।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক, চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭৬ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমনের চারা রোপন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, গত বোরো মৌসুমে বৃষ্টিতে কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। আর এ ক্ষতি পুশিয়ে নিতে এবার কৃষকরা আমনের দিকে ঝুঁকবে। তবে বৃষ্টির অভাবে আমনের চারা রোপনে একটু বিলম্ব হলেও ভাল ফলন হলে কৃষকের তা পুশিয়ে যাবে।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd