ঢাকা : বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • জাতীয় নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার বুধবার থেকে নেবেন প্রধানমন্ত্রী          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৫৩:৪০
নো-হেলমেট নো-পেট্রল কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক
নজরুল মৃধা


 


সড়কে চলাচল নিরাপদ করতে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষে নো হেলমেট নো পেট্রল-এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল দিন দশেক আগে রংপুর পুলিশের উদ্যোগে। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পুলিশ ও পেট্রলপাম্প মালিকদের যৌথ সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালকদের তেল দিবেন না পাম্প মালিকরা। প্রথম প্রথম এই আবেদনে সাড়া না মিললেও কদিনের মাথায় পুলিশের এই আবেদনে ব্যাপক সাড়া মিলে। রংপুরের দেখাদেখি ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকা ও দিনাজপুরে নো হেলমেট নো পেট্রল এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। আশা করি, এই উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। এতে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না হলেও দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে অনেকে মনে করছেন।

রাস্তাঘাটে আমরা লক্ষ্য করি, মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে তরুণরাই বেশি ঝুুঁকি নেয়। মোটরসাইকেল চালানোর সময় অমনোযোগিতা, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, গাড়ির গতি ঠিক রাখতে না পারা, গাড়ি চালানোর সময় আগে থেকেই সামনের দুর্ঘটনা ঘটার প্রবণতা বুঝতে না পারা ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেল আরোহীরা দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে তরুণ চালকদের নিজেদের ক্ষমতা উপলব্ধি করতে না পারায় এমনটা হচ্ছে। কারণ তারা অধিকাংশ সময় নিজেদের দক্ষ মনে করেন। নিজেকে দক্ষ মনে করাটাই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে অনেকে মনে করছেন।

দেখা গেছে, দুর্ঘটনায় পতিতদের উল্লেখযোগ্য অংশই হেলমেট ব্যবহার করেন না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া রাস্তায় চলাচল করার সময় পথচারীরা নিজস্ব যুক্তি এবং বুদ্ধি দিয়ে রাস্তা পার হয়। এখানে শৃঙ্খলার বিষয়টি উহ্য হয়ে পড়ে। তাই দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়ছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, দুর্ঘটনা ঘটেছে চালক অথবা পথচারীর অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের জন্য। তাই দুঘটনার জন্য একজন পথচারী বা গাড়িচালক কিংবা উভয়ই দায়ী হতে পারে। কারণ পথচারীদের তাড়াতাড়ি গন্তব্যে পৌঁছার তাড়া থাকে। অপরদিকে যানবাহনের চালক নিজের যোগ্যতা প্রমাণে ব্যস্ত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন।

পরিবহন প্রকৌশল গবেষণায় উঠে এসেছে পথচারী এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে রাস্তায় সে কতটুকু সময় অতিবাহিত করেছে, সেটি পরিমাপ করা। যেমন গন্তব্যে যেতে কতটুকু সময় লাগছে, যাওয়ার সময় যানজট আছে কিনা সেটি লক্ষ্য রাখা, কোন রাস্তা দিয়ে সে যাচ্ছে ইত্যাদি। এসব না থাকা এবং পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।  দেখা গেছে, মোটরসাইকেল আরোহীরা আইন থাকা সত্ত্বেও হেলমেট ব্যবহার করছেন না। মোটরসাইকেল আরোহীদের যখন আইনের ফাঁদে আটকানো যাচ্ছে না- তখন নো হেলমেট নো পেট্রল কর্মসূচি কার্যকর ওষুধ হিসেবে কাজ করেছে। এই ওষুধ দেশের প্রতিটি জেলা- উপজেলা, নগর-বন্দরে ছড়িয়ে দিতে পারলে সমাজের বিরাট উপকার হবে।

এই পুলিশ সম্পর্কে একটু ধারণা নেয়া যেতে পারে। পুলিশের ইতিহাস অনেক পুরোনো। রোম সাম্রাজ্যের রাজা অগাস্টাসের সময় দেখা যায় একটি প্রতিষ্ঠান আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।  এছাড়া ভারতবর্ষে মনু সংহীতা, চিত্রলিপি ও সম্রাট অশোকের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বিশেষ বাহিনীর পরিচয় পাওয়া যায়। অপরদিকে সুলতানি আমলেও সরকারি পুলিশের স্তর বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। সম্রাট আকবরের সময়ে সম্রাট তার ফৌজদারি প্রশাসনিক কাঠামো তিন ভাগে ভাগ করেছিলেন। এর এক ভাগ হচ্ছে কোতোয়াল। অর্থৎ প্রধান বড় শহরের পুলিশ কর্মকর্তা। সম্রাট আকবরের এই ব্যবস্থা শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। এর পর বৃটিশ আমলে ১৮২৯ সালে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে পুলিশ বিল এনে লন্ডন মেট্রো পুলিশ গঠন করেন। ১৮৫৬ সালে ভারত শাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে বৃটিশ সরকার গ্রহণ করে। ১৮৬১ সালে ভারতবর্ষের প্রতিটি প্রদেশে পুলিশ বাহিনী গঠন করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বাংলাদেশ পুলিশের নাম প্রথমে ইস্ট বেঙ্গল পুলিশ রাখা হয়। পরে একে ইস্ট পাকিস্তান পুলিশ করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই নামে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ পুলিশ গঠন করা হয়।  স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশ বাহিনী যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- স্বাধীনতা-উত্তরও পুলিশ বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি পুলিশের নো হেলমেট নো-পেট্রল কর্মসূচিটিতেই জনগণ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। জনগণের এই সাড়া ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন স্থায়ী উদ্যোগ ও ব্যাপক সচেতনমূলক প্রচারণা।
লেখক : কবি ও সাংবাদিক

printer
সর্বশেষ সংবাদ
বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর

Developed by orangebd