ঢাকা : সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা           কারও মুখের দিকে তাকিয়ে মনোনয়ন দেয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী          ২২তম অধিবেশন চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          দেশের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫৩:৪৫
পরিবেশ রক্ষা করেই কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করছে আইসোটেক
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 


আন্তজার্তিক মান অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েই বরগুনা জেলায় কয়লা ভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে আইসোটেক। এছাড়া প্রকল্প এলাকার অধিবাসীদের দেয়া হচ্ছে ক্ষতিপূরণ। গত দুই বছরে বেসরকারি বেশ কয়েকটি কোম্পানি সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ প্লান্ট নির্মাণের চুক্তি করলেও অনেক কোম্পানির কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। তবে আইসোটেকের কাজের গতি সন্তোষ জনক। আর যেসব কোম্পানির কাজের গতি কম, তাদের সঠিক সময়ে মধ্যে কাজ শেষ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি’র ৪৬তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্রগতি সন্তোষজনক এবং এটি আগামী   বছর থেকে উৎপাদনে যেতে পারবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের বিকল্প কাউন্সিলর অফিসার স্বাক্ষরিত সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০১৭ সালে কয়লা আমদানি করে প্লান্ট চালানোর জন্য সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছিল মাতারবাড়ি ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটির অগ্রগতি ১৮ শতাংশ। আর বরগুনা জেলায় কয়লা ভিত্তিক ৩৫০ মেগাওয়াট  ২২ শতাংশ। ২০২২ সালের শুরু থেকেই উৎপাদনে যাবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।  
জানা যায়, এর আগেও রবগুনা  অঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি। তবে সেগুলো আর আলোর মুখ দেখেনি। বরগুনায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে আইসোটেক গ্রুপ।  এ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইসোটেক ইলেকট্রোফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ছোট নিশানবাড়ীয়ায় নির্মাণ করতে যাচ্ছে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প। উৎপাদন শুরুর পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে নূন্যতম ৩০৭ মেগাওয়াট  বিদ্যুৎ।
‘বরিশাল ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড’নামের প্রকল্পটি চলতি বছরের ১২ এপ্রিলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় সংক্রান্ত (পার্চেস এগ্রিমেন্ট ও ইমপ্লিমেন্টেশন) চুক্তি  করে। এটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে চীনের ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ ও বাংলাদেশের আইসোটেক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘আইসোটেক ইলেট্রিফিকেশন কোম্পানি লিমিটেড’।
জানা যায়, মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা (৫৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। মোট ৩০০ একর জমির উপর নির্মিতব্য এই প্লান্ট থেকে চুক্তি অনুযায়ী সরকারকে ২৫ বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭৭ টাকা (প্রতিটন কয়লার দর ১২০ ডলার হিসেবে)। তবে কয়লার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম পড়বে ৪টাকা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আইসোটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক  মো. মঈনুল আলম বৃহস্পতিবার টেলিফেোনে  বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ একটি প্রধান উপাদান। উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য। তাই আমারও এধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তবে পরিবেশের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেটাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আর সেখানকার এলাকাবাসীর জন্য পুনবার্সন চলছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বৈদেশিক অর্থায়নে নির্মিত হওয়ায় সেহেতু নিয়ম নীতির ব্যত্যয় ঘটানোর সুযোগ নেই। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে নির্মিত হচ্ছে।
সংসদীয় কমিটিতে জানানো হয়, প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী অধিবাসীদের পুনবার্সন করার জন্য সাড়ে তিন একর জমি কেনা হয়েছে। সেখানে পানি উন্নয়নের বোর্ডের জমিতে ১০৪ টি পরিবার বসবাস করে। সেই ১০৪ জনের প্রত্যেককে ৫ শতক করে জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচয়ে বলা হয়- ‘পাওয়ার চায়না রিসোর্স লিমিটেড’ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। তারা অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া,  ভিয়েতনাম,   কম্বোডিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে দক্ষতার সঙ্গে কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এসব দেশে প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবিষয়ে আইসোটেক গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার  ফিরোজ চৌধুরী বলেন, ওই এলাকায় শুধু  বিদ্যুৎ প্লান্ট নয়, সেখানে কর্মরতদের ও স্থানীয়দের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির করা হবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে সাড়ে তিন হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।  আর সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করা হবে।
কমিটির সভাপতি মোঃ তাজুল ইসলামে এমপির সভাপতিত্বে  কমিটির সদস্য ও সংসদের হুইপ মোঃ আতিউর রহমান আতিক এমপি এবং এম এ লতিফ এমপি বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বাস্তবায়নাধীন কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
 

printer
সর্বশেষ সংবাদ
সারা দেশ পাতার আরো খবর

Developed by orangebd