ঢাকা : মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

সংবাদ শিরোনাম :

  • সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে : সিইসি          নির্বাচনের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : সিইসি          দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাক : মমতা          জীবনমান উন্নয়নের শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী          বঙ্গবন্ধুর নাম কেউ মুছতে পারবে না : জয়
printer
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৭:৫১:৫৫
এলএনজির মূল্য নির্ধারণে ঢাকা চেম্বারের আহবান
টাইমওয়াচ রিপোর্ট


 

ডিসিসিআই’র সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেছেন, আমাদের শিল্প-কারখানার অগ্রগতির চাকাকে সচল রাখার ক্ষেত্রে সম্প্রতি গ্যাসের স্বল্পতার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
 
 
তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে সরকারকে মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার বাস্তবায়নের উপর জোরারোপ করেন, পাশাপাশি স্থানীয় কয়লার উত্তোলন ও তার ব্যবহারের আহবান জানান।
 
 
২৪ নভেম্বর শনিবার চেম্বার অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘এলএনজি মূল্য নির্ধারণ : ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে-এর প্রভাব- শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
 
 
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য রহমান মুরশিদ গেস্ট অফ অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
 
 
ডিসিসিআই’র সভাপতি আবুল কাসেম খান জানান, বর্তমানে প্রতিদিন আমাদের গ্যাসের উৎপাদন প্রায় ২,৭০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট যেখানে আমাদের চাহিদা রয়েছে ৩,৪০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট এবং চাহিদার এ গ্যাপ মিটানোর জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট এলএনজি আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।
 
 
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আমাদের শিল্পখাতে এলএনজি আমদানির প্রভাব ৭২%-৯৩%, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে প্রায় ২০৬% এবং ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতে প্রায় ৬৬% হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি এলএনজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাশ্ববর্তী দেশসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব করেন। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারে কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম আরো বাড়ানো এবং একই সাথে বাপেক্ষ’র সক্ষমতা বাড়ানো একান্ত আবশ্যক।      
 
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ১০ বছরে বৈশ্বিকবাজারে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বেড়েছে যথাক্রমে প্রায় ৬৩% ও ১১৫%। তিনি জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের উপর আমাদের নির্ভরশীলতা প্রায় ৯০ ভাগ এবং এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসের বহুমুখীকরণ আবশ্যক বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের লক্ষ্যে পাশ্ববর্তী দেশগুলো হতে একই দামে বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হলে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের শিল্প-কারখানা সমূহে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হবে এবং এ লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ভারত হতে প্রায় ১১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্ক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যৌথভাবে “হাইড্রো পাওয়ার” ও “সোলার পাওয়ার” ব্যবহার লক্ষ্যে একটি “সার্ক সোলার গ্রিড” স্থাপনের প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির পর তার দাম নির্ধারনের ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসায়িক কর্মকা- পরিচালনায় যেন ব্যয় অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি না পায়, সেদিকে সরকার যত্নবান হবে।
 
 
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)র সদস্য রহমান মুরশিদ বলেন, জ্বালানী দাম বৃদ্ধিতে বিইআরসি আয়োজিত গণশুনানি সমূহে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আরো বেশি হারে তথ্য ভিত্তিক বক্তব্য উপস্থাপনের আহবান জানান, যার মাধ্যমে বিইআরসি বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। তিনি আমাদের অর্থনীতিতে গ্যাসের ভূমিকার উপর একটি গবেষণা পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন, যার ফলে কোন খাতে কি পরিমাণ গ্যাস বরাদ্দ করা হবে তা নির্নয় সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই গ্যাসের পাশাপাশি অন্যান্য উৎসসমূহের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। তিনি এলএনজি’র নির্ধারত মূল্য আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলবে তা খতিয়ে দেখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।     
 
 
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রাক্তন সচিব ড. মোহাম্মদ ফওজুল কবির খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন,  ১৯৯৮ সালের পর আমরা নতুন কোন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে পারিনি, যার ফলে বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে তা আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এবং এমনই বাস্তবতায় আমাদের এলএনজির পাশাপাশি অন্যান্য উৎসসমূহ ব্যবহারে আমাদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে স্থল ভিত্তিক টার্মিনাল এবং সমুদ্র এলাকায় ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের মধ্যে সমন্বয় সাধন আবশ্যক বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, এলএনজি আমদানি ব্যয়বহুল হওয়ায় আমাদের গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাবে, তবে সেটা যেন কোন ভাবেই আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ না করে, সেদিকে সরকার কে যত্নবান হওয়ার আহবান জানান। 
 
 
নির্ধারিত আলোচক হিসেবে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা এম আমজাদ হোসেন, বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস্ এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জহিরুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ এসোসিয়েশনের পরিচালক ইঞ্জিঃ রাজিব হায়দার, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ড. এম শামসুল আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল আলম অংশগ্রহণ করেন। মোল্লা এম আমজাদ হোসেন জ্বালানি ব্যবহারে আমাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি মজুদকৃত কয়লা উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়লার ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ প্রদান করেন। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফেকচার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে পরিচালিত ৩৩টি কারখানা প্রতিবছর প্রায় দেড় লক্ষ টন সিমেন্ট উৎপাদন করছে এবং এলএনজির আমদানির কারণে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সিমেন্টের দাম বাড়বে এবং দেশের সিমেন্ট শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ড. এম শামসুল আলম বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে ন্যয়সঙ্গত ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এধরনের মূল্য বৃদ্ধি সার্বিকভাবে জনগনের উপর কি ধরনের প্রভাব ফেলে তা আরো পর্যবেক্ষনের আহবান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. বদরুল আলম বলেন, ২০০৫ সালের পর হতে বাংলাদেশ নতুন গ্যাস ক্ষেত্রে অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি, এরই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে আমরা জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বিশেষকরে বঙ্গবসাগর এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে নতুন কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার আহবান জানান।
 
 
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই প্রাক্তন সভাপতি হোসেন খালেদ, পরিচালক হুমায়ুন রশিদ, নূহের লতিফ খান, প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সালাম, প্রাক্ত সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, প্রাক্তন পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, ডিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটির আহবায়ক এম এস সিদ্দিকী, সালমান করিম, বিকেএমইএ’র প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। হোসেন খালেদ বিদ্যুৎতের সিস্টেম লস কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা প্রযুক্তিগত ও মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং গৃহস্থলি ও যানবাহনের গ্যাসের পরিবর্তে এলপিজি ব্যবহারের আহবান জানান। হুমায়ুন রশিদ বলেন, গ্যাস উত্তোলন এবং সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনায়  তিতাসের দক্ষতা বৃদ্ধি একান্ত আবশ্যক। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির পর গ্যাসের মূলের উচ্চ হার নির্ধারণ করা হলে আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তাবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এবং বিদেশী উদ্যোক্তাবৃন্দ বাংলাদেশ বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন।             
 
 
ডিসিসিআই সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক হোসেন এ সিকদার, হুমায়ুন রশিদ, ইমরান আহমেদ, মোঃ আলাউদ্দিন মালিক, ইঞ্জিঃ মোঃ আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীরউদ্দিন, নূহের লতিফ খান, এস এম জিল্লুর রহমান, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী এবং মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

printer
সর্বশেষ সংবাদ
অর্থ-বাণিজ্য পাতার আরো খবর

Developed by orangebd