চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় আজ বুধবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
এর আগে পৃথক দুই আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি ও কক্সবাজারেও টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। কোথাও জমেছে হাঁটুপানি। টানা বর্ষণ হওয়ায় থৈ থৈ পানি অনেক জায়গায়। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলীর জোয়ার একাকার হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তৈরি হয়েছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কাও। ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, নিচু এলাকাগুলো কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে ডুবে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল কমে গেছে সড়কে, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কম।
খাগড়াছড়িতে তিনদিন ধরে টানা বর্ষণে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও বাসা-বাড়িতে ঢুকছে পানি। কিছু কিছু সড়কে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষরা। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ভারী বৃষ্টিতে মঙ্গলবার মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে।


















