গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করে ৬ হাজার ১৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পরীক্ষাগার, GAP (উত্তম কৃষি চর্চা/Good Agricultural Practices) ও HACCP (ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও সংকটজনক নিয়ন্ত্রণ বিন্দু/Hazard Analysis and Critical Control Points) ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আধুনিক মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য বিশ্বের ৫০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে ৬ হাজার ১৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার অনুমোদিত জাতীয় মৎস্য নীতিমালা-২০২৬ বাস্তবায়ন, জলবায়ু সহিষ্ণু মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ, স্মার্ট ও IoT-ভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত জাতের মাছ উদ্ভাবন, রোগমুক্ত পোনা উৎপাদন, হ্যাচারিতে PCR সুবিধা সম্প্রসারণ এবং চিংড়ির বৈশ্বিক ব্র্যান্ডিং ও রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মৎস্য খাতে বাংলাদেশের সাফল্য প্রতিষ্ঠিত ও স্বীকৃত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের মতো এ বছরও অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
পাশাপাশি বন্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ গত ছয় বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বে তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে। এটি মৎস্য খাতে বাংলাদেশের একটি অভাবনীয় সাফল্য।
এছাড়া বিশ্বে ইলিশ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম, তেলাপিয়া উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ ও এশিয়ায় তৃতীয়, ক্রাস্টাশিয়ান আহরণে অষ্টম এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব অর্জন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক উপস্থিত ছিলেন।

















