মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ত্রিপল (তিনজন) হত্যা মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ৫ নভেম্বর ২০২৬ দুপুরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এস এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন- মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।তারা হলেন- উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলা।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার বলেন, ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজিজ মোল্লা, টেন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আজিজ মোল্লার স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রহমান ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ মামলায় মোট ২১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন রায়ে সন্তোষ প্রকাশ না করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন।


















