১১ অক্টোবর ২০২৬, এখন সময় সকাল ১১:১৭ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটনের গুরুত্ব

প্রতিবেদক
এ কে নাহিদ
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য পর্যটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জিডিপির শতকরা ৪.৪ শতাংশ পর্যটন খাত থেকে আসে। এই খাতকে আরও উন্নত করে দেশের বেকারত্ব দূর করাসহ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। কিন্তু বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতা, সঠিক পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নের অভাবসহ নানা কারণে এর কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছে না দেশের পর্যটন খাত। তাই অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটনের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এই নিয়েই এবারের টাইমওয়াচ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন; লিখেছেন এ কে নাহিদ
সাগরের গর্জন, পাহাড়ের নীরবতা, হাওরের সৌন্দর্য, প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন; সব মিলিয়ে ৭শ’ থেকে ৮শ’ দর্শনীয় স্থান নিয়ে বৈচিত্র্যময় আমাদের বাংলাদেশ। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের এই দেশে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে সম্মুখীন হতে হচ্ছে নানা রকম প্রতিকূলতার। অবকাঠামো, মানসম্মত রাস্তা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যটন শিল্পের সমন্বয়হীনতা, দক্ষ জনবলের অভাব, বাজেটের ঘাটতিসহ রয়েছে আরও অনেক সমস্যা। বিদেশি পর্যটকেরা আমাদের পর্যটন শিল্পের প্রতি আকর্ষিত তো হচ্ছেই না বরং আমাদের দেশের পর্যটকেরা অবসর সময় কাটাতে চলে যাচ্ছে বিদেশে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ১শ’ কোটিরও বেশি। দেশের বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামীতে এই বিপুল সংখ্যার পর্যটকের ৭৩ শতাংশই ভ্রমণ করবে এশিয়ার দেশগুলোতে। বাংলাদেশ যদি এই বিশাল বাজার ধরতে পারে। তবে উদীয়মান পর্যটনের হাত ধরেই বদলে যেতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতি। বাংলাদেশের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ পর্যটক দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণ করে থাকে। বাংলাদেশে ২০১৯ সালে পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল সবচেয়ে বেশি। যার ফলে ১৪০ টি দেশের মধ্যে ১২৫ তম স্থান থেকে ১২০ এ গিয়ে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। আপাতদৃষ্টিতে, পর্যটন শিল্পের উন্নতি মনে হলেও ব্যাপারটা আসলে সেরকম না। এশিয়ার দেশগুলোর মাঝে শুধু পাকিস্তানই বাংলাদেশ থেকে পিছিয়ে আছে। আবার পর্যটন আয়ের বেশির ভাগই আসছে দেশীয় উৎস থেকে। এটি প্রমাণ করে যে বিদেশি পর্যটকের কাছে আমাদের পর্যটন শিল্পের জনপ্রিয়তা এখনো অনেক কম। বর্তমানে পর্যটনকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করছে থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, ভারত ও নেপালের মতো দেশ। পর্যটন আকর্ষণে পিছিয়ে নেই দুবাই, কাতার, সৌদি আরব, মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও। ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটন আয় ছিল ৩৯.৪ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আয় ছিল ১৫১.৯ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল আয়ের মধ্যে বাংলাদেশের আয় খুবই নগণ্য। শুধুমাত্র ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম থেকে প্রায় ৮৬ শতাংশ আয় এসেছে পর্যটন খাতে। অথচ তাদের তুলনায় বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে।
অবকাঠামোগত অবস্থা
পর্যটন কাঠামোর দিক থেকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৯তম। এশিয়ার মধ্যে শুধু পাকিস্তান ছাড়া বাকি সব দেশ থেকেই পিছিয়ে বাংলাদেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সত্ত্বেও এখনো রয়েছে অনেক দুর্বলতা। দীর্ঘ যানজটের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। নেই পর্যাপ্ত হোটেলের সুব্যবস্থা। পর্যটনকেন্দ্রগুলো অবহেলিত। এগুলোর সুপরিকল্পিত আধুনিকায়ন ও শুল্কমুক্ত বিপণির অভাবও এ ক্ষেত্রে বড় বাঁধা।
দেশীয় বিমান ব্যবস্থা
বিদেশি পর্যটকদের কাছে নিজের দেশকে তুলে ধরতে দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বাংলাদেশকে উপস্থাপন করলেও এশিয়ার বাইরে শুধু কয়েকটি শহরে ফ্লাইট সার্ভিস দিয়ে থাকে। যার ফলে বাকি দেশের পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশের পরিবহন ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি। দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে বিমান ব্যবস্থার দিক থেকে আমাদের অবস্থান ১১১তম। যা এশিয়ার মাঝে সবচেয়ে পেছনে।
প্রচার-প্রচারণা
বিশ্ব দরবারে দেশের পর্যটনকে পরিচিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দরকার। বর্তমান বিশ্বে আমরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিবিসি, সিএনএন, ডিসকভারি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সমাজ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যসহ প্রাকৃতিক রূপ অবলোকন করে থাকি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তেমন কোনো প্রচার নেই বললেই চলে। প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কথা তুলে ধরার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে মনে করেন দেশের সংশ্লিষ্টমহল।


নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিদেশি পর্যটকদের কাছে সুরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বড় একটি ইস্যু। অস্থিতিশীলতা, চুরি, ছিনতাই, হত্যা, রাহাজানি, সহিংসতা থেকে পর্যটকদের রক্ষা করতে হবে। পর্যটকদের দিতে হবে নির্বিঘ্নে চলাফেরার নিশ্চয়তা।পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে তবেই না তারা এই দেশের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাহলেই এগিয়ে যাবে দেশের উদীয়মান পর্যটন শিল্প।
উন্নত সেবা ও তথ্যভাণ্ডার
দক্ষ, মার্জিত জনবলের অভাব এই শিল্পের একটি বড় সমস্যা। সেই সঙ্গে রয়েছে উন্নত ও দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থার অভাব। বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় না প্রয়োজনীয় তেমন কোনো তথ্য। দিতে ব্যর্থ হচ্ছে পর্যটকের কাক্সিক্ষত সেবা।
পর্যটকের জন্য ব্যয় ব্যবস্থাপনা
পর্যটন শিল্পে উন্নত কিছু দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পর্যটনের ব্যয় অনেকটাই বেশি। কিন্তু সেই অনুপাতে সুযোগ-সুবিধা খুবই কম। বাড়তি যাতায়াত খরচ থেকে শুরু করে মানের তুলনায় হোটেলগুলোর উচ্চমূল্যের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় প্রায়শই। এটি অনেক বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। কেননা এর চেয়ে কম ব্যয়ে ভালো সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে অন্য দেশগুলো।
পশ্চিমা দেশের পর্যটক আকর্ষণ
বাংলাদেশের পর্যটকের প্রায় বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে। মাত্র ৫ শতাংশ পর্যটক ইউএসএ থেকে আসলেও বেশির ভাগই রয়েছে প্রবাসী বাঙালি। বিশ্বব্যাপী পর্যটন বাজারের ৫৩ শতাংশ আসে আমেরিকা এবং ইউরোপ থেকে। যা থেকে আমরা অনেকটাই বঞ্চিত। এশিয়ার বাইরে থেকে আসা পর্যটকের হার শতকরা ২০ শতাংশ থেকে ৭১ শতাংশ। যেখানে আমাদের দেশের হার মাত্র ৭ শতাংশ।
অ্যামিউজমেন্ট ও বিনোদন পার্ক
অ্যামিউজমেন্ট পার্ক পর্যটনের বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মূলত বিনোদনভিত্তিক পর্যটনের অংশ, যা পরিবার, শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে ভ্রমণে উৎসাহিত করে। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক শুধু বিনোদনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা, আনন্দ এবং মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে। এই ধরনের পার্ক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণ করে। ফলে পর্যটন শিল্পে আয় বাড়ে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হয়। পার্ককে ঘিরে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার প্রসার ঘটে, যা কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করে। এছাড়া এটি শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং পরিবারকেন্দ্রিক পর্যটনকে জনপ্রিয় করতে সহায়তা করে। সবচেয়ে বড় কথা- অ্যামিউজমেন্ট পার্ক একটি দেশের আধুনিক পর্যটন অবকাঠামোর প্রতীক হিসেবে কাজ করে। আন্তর্জাতিক মানের পার্ক তৈরি হলে বিদেশি পর্যটকের কাছেও দেশটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। ফলে বলা যায়, পর্যটন শিল্পে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক একাধারে বিনোদন, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলাদেশের অ্যামিউজমেন্ট পার্কগুলোর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলে মনে করা যায়। দেশীয় পর্যটন এবং বিনোদন খাতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পরিবারভিত্তিক পর্যটকদের মধ্যে। পর্যটন শিল্পকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে সরকার চিহ্নিত করায় নতুন বিনিয়োগ, উন্নত অবকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও আধুনিক থিম পার্ক, ওয়াটার পার্ক এবং বিনোদন কমপ্লেক্স গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের রাইড, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও এডভেঞ্চার গেমিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করলে বিদেশি পর্যটকও আকৃষ্ট হবে। এছাড়া স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাদ্যকে পার্ক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করলে বাংলাদেশি পার্কগুলো আরও বিশেষ হয়ে উঠবে। সঠিক পরিকল্পনা, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা হলে, অ্যামিউজমেন্ট পার্কগুলি কেবল বিনোদনের স্থানই হবে না, বরং এটি পর্যটন শিল্পের একটি বড় অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। ফলে বলা যায়, বাংলাদেশের অ্যামিউজমেন্ট পার্কের ভবিষ্যৎ আশাপ্রদ এবং সম্ভাবনাময়। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনোদন পার্ক এবং থিম পার্কগুলো পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমানে দেশে প্রায় ৫৫টির মতো থিম পার্ক এবং ৩শ’টিরও বেশি বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্র আছে, যা শহর ও গ্রামীণ জনগোষ্টীদের বিনোদনের সুযোগ দেয়। রাজধানী ঢাকায় ঋধহঃধংু করহমফড়স, ঘধহফধহ চধৎশ এবং ঢাকা শিশু পার্ক অন্যতম প্রধান পার্ক হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রামে ঋড়ু’ং খধশব ঈড়হপড়ৎফ অসঁংবসবহঃ ডড়ৎষফ এবং মিরসরাইয়ে অৎংযর ঘধমধৎ ঋঁঃঁৎব চধৎশ বেশ জনপ্রিয়। কুমিল্লার গধমরপ চধৎধফরংব ও নরসিংদির ড্রিম হলিডে পার্ক বর্তমানে পর্যটক আকর্ষণে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে, যেখানে ওয়াটার পার্ক এবং থ্রিল রাইডের সুবিধা আছে। মুন্সিগঞ্জে গধহধ ইধু ডধঃবৎ চধৎশ দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম ওয়াটার পার্ক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া দিনাজপুর ও রংপুরে স্থানীয় পর্যায়ে ঝযড়ঢ়হড়ঢ়ঁৎর অৎঃরভরপরধষ অসঁংবসবহঃ চধৎশ উল্লেখযোগ্য। এই পার্কগুলো শুধু বিনোদনই দেয় না বরং পর্যটকদের আকর্ষণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে। পার্কগুলোর উপস্থিতি হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে প্রসারিত করেছে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন মান তৈরি হচ্ছে এবং পরিবারকেন্দ্রিক পর্যটন আরও জনপ্রিয় হচ্ছে। ফলে বলা যায়, বাংলাদেশের অ্যামিউজমেন্ট ও বিনোদন পার্কগুলো পর্যটন বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


পর্যটন খাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই সরকারের দায়িত্ব হলো- পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। এজন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা আয়োজন, প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যদিকে বেসরকারি খাত পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনী সেবার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আধুনিক হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তুলে তারা মানসম্মত সেবা প্রদান করতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, লোকশিল্প, হস্তশিল্প ও খাদ্যপণ্যের প্রচার-প্রসারে বেসরকারি উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এছাড়া কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (ঈঝজ) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্প ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও বেসরকারি খাত এগিয়ে আসতে পারে। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও সেবা প্রদান একে অপরের পরিপূরক। এ দুটি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাতে পরিণত করা সম্ভব। দেশীয় পর্যটকদের উৎসাহিত করার জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রথমত, জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে ভ্রমণে আগ্রহী হয়। দ্বিতীয়ত, পর্যটন এলাকায় মানসম্মত ও বাজেট-বান্ধব হোটেল, রিসোর্ট এবং রেস্টুরেন্ট বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবার ও তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করার জন্য নতুন থিম পার্ক, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর, সাংস্কৃতিক উৎসব এবং ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন করা যেতে পারে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পর্যটন বিষয়ে প্রচারণা চালানো দরকার, যাতে মানুষ দেশের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও জানে। স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও লোকশিল্পকে ভ্রমণ অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করলে পর্যটকরা বাড়তি আগ্রহ পাবে। একই সঙ্গে বিশেষ ছুটির প্যাকেজ, শিক্ষার্থী ছাড় এবং কর্পোরেট ট্যুরিজম প্যাকেজ চালু করা যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করা। পর্যটকরা যদি নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পান, তবে তারা বারবার ভ্রমণে আগ্রহী হবে। তাই দেশীয় পর্যটনকে এগিয়ে নিতে সরকারের নীতি সহায়তা, উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ একসাথে কাজ করতে হবে।
সবশেষ কথা
দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের দায়িত্ব আমাদেরই। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগও বিকাশ ঘটাতে হবে দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পের। তাই সঠিক পরিকল্পনা অতি জরুরি। কারণ পর্যটন শিল্পে সঠিক পরিকল্পনায় পারে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে পরিচিত করতে। বর্তমানে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের অবস্থান ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ এখন বেশি ভ্রমণ করছে। ছুটির দিনে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রচুর ভিড় দেখা যায়। তবে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে। এর অন্যতম কারণ হলো অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি, মানসম্মত সেবার অভাব এবং নিরাপত্তাজনিত কিছু শঙ্কা। যথাযথ প্রচারণা ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব। দেশের অনেক স্থানে অপরিকল্পিত উন্নয়ন, পরিবেশ দূষণ ও অব্যবস্থাপনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করছে। উপরন্তু প্রশিক্ষিত গাইড, হোটেল ম্যানেজার ও পর্যটন বিশেষজ্ঞের ঘাটতি এই খাতের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যা সমাধানে আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পর্যটন এলাকায় মানসম্মত হোটেল, রিসোর্ট ও খাদ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি ও দেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করতে হবে। আন্তর্জাতিক প্রচারণা বৃদ্ধি করে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সবশেষে, পর্যটন খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা গেলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প ভবিষ্যতে অর্থনীতির অন্যতম বড় চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারবে। এছাড়া পর্যটন এলাকাগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, টহল জোরদার এবং জরুরি যোগাযোগ নম্বর চালু করতে হবে; যাতে পর্যটকরা যে কোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন। হোটেল-রিসোর্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ফায়ার সেফটি ও জরুরি উদ্ধার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। তাছাড়া পর্যটন করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া। পর্যটকদের জন্য তথ্যকেন্দ্র, গাইডলাইন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে উন্নত করা। বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পকে নিরাপদ করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা। পাশাপাশি বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে জোড়ালোভাবে কাজ করতে হবে। সর্বোপরি অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটনের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। তাই এই খাতের উন্নয়নে সরকারকে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত