লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকারের উচিত জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি না করে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কার্যকর জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ৮ আগস্ট রাজধানীর সেগুন বাগিচার তোপখানা রোডের এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসপি চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী এইসব কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে অ্যাডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসপির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া।
সভায় বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের বহিরাগত চাপ, প্রভাব বা হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্য, সংলাপ, সহনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। তিনি বলেন , লাগামহীন দ্রব্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। সরকারের উচিত জনগণের ওপর নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি না করে বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং কার্যকর জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,আবারো তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হলে জনগণ তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরী বলেন, দেশ আজ গভীর অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি খাতে ভ্যাট ও কর বৃদ্ধি ব্যবসা-বাণিজ্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে, শিল্প-কারখানা বন্ধ হবে এবং বেকারত্ব ভয়াবহ রূপ নেবে। করের বোঝা চাপিয়ে জনগণের পকেট কাটা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে কার্যত একটি নীরব দুর্ভিক্ষ চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, চোরাচালান, মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে দুর্বৃত্তচক্র জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের সাংবিধানিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। সরকার যদি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ক্ষুব্ধ জনগণ রাজপথে নেমে নিজেদের অধিকার আদায়ে বাধ্য হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিএসপির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, বিএসপি একটি জনকল্যাণমুখী দল তারা দেশ ও জনগণের কথাই বলে। তিনি দলের নেতৃবৃন্দকে এই কঠিন সময়ে জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
বিএসপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার সঞ্চালনায় সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক লীগের সভাপতি এম. এ জলিল, জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মোঃ দিপু মির, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মোশতাক আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন- বিএসপি ভাইস চেয়ারম্যান, খলিফা মোঃ মনির হোসেন, খলিফা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আশিকুর রহমান হাসেমী, এস এম শাহাবুদ্দিন, অতিরিক্ত মহাসচিব মোহাম্মদ আসলাম হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মোঃ সোহেল সামাদ বাচ্চু, ঢালী কামরুজ্জামান হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ মুহাম্মদ আব্দুল বারী, প্রচার সম্পাদক ও শরীয়তপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ রওনকুল ইসলাম হিজবুল, ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদিকা লিজা আক্তার, গাজীপুর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, শরীয়তপুর জেলা সভাপতি মোঃ আসাল উদ্দীন, লক্ষ্মীপুর জেলা আহবায়ক আহসান উল্লাহ মাস্টার, নরসিংদী জেলা সভাপতি খলিফা শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দীন ভূঁইয়া, নরসিংদি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজাদ, মুন্সিগঞ্জ জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকবর আলী, মোঃ লিয়াকত আলী প্রমুখ।

















