৫ জুন ২০২৬, এখন সময় সকাল ৬:৪৬ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

কুমিরশূন্য খানজাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দিঘি

প্রতিবেদক
স্টাফ রিপোর্টার
জুন ৪, ২০২৬ ৪:০৯ অপরাহ্ণ

বাগেরহাটে ৬০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কুমিরশূন্য হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার সংলগ্ন দিঘিটি। খানজাহান আলী (রহ.) এর সময় থেকে বয়ে চলা ঐতিহ্য না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন মাজারের খাদেমসহ সংশ্লিষ্টজন। প্রয়োজনে মাজারের দিঘিতে ফেন্সিং করে কুমির ফিরিয়ে আনার দাবি মাজার সংশ্লিষ্টদের। কুমিরশূন্য দিঘিতে কুমির ফেরাতে প্রয়োজনে আন্দোলনে নামবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, ১৪৫৯ সালে মৃত্যুর আগে হজরত খানজাহান আলী (রহ.) নিজেই মাজারের দিঘিতে কালা পাহাড় ও ধলা পাহাড় নামে দুটি কুমির ছেড়েছিলেন। এরপর তাদের বংশধরের মধ্যে পুরুষ কুমিরটি ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরটিকে ‘ধলা পাহাড়’ নামে ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এর কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটি ছিল, তার একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে একটি কুমিরই দিঘিতে ছিল। সর্বশেষ কুমিরের আক্রমণে ফাতেমা আক্তার নামের এক শিশু মারা যাওয়ায় বুধবার (৩ জুন) কুমিরটি খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
মাজারের খাদেম জামাল হোসেন বলেন, বিভিন্ন মাজারের বিভিন্ন রকম ঐতিহ্য থাকে। আমাদের খানজাহান আলী (রহ.) এর ঐতিহ্য দিঘির এই কুমির। দুর্ঘটনার কারণে আমাদের এই মাজার থেকে কুমিরটি নিয়ে গেছে। দিঘি কুমিরশূন্য হওয়ায় খুবই খারাপ লাগছে। এখন পুনরায় দিঘিতে কুমির ফিরিয়ে আনার দাবি জানাই। আমরা প্রয়োজনে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘাটে গ্রিল দিয়ে আটকিয়ে দেব। খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে একটি শিশুকে কুমির আক্রমণ করে মেরে ফেলে। এ ঘটনাটির জন্য আমরা ব্যথিত। কুমির একটি হিংস্র প্রাণী। দিঘির পানি রক্ষায় খানজাহান আলী (রহ.) দিঘিতে দুটি কুমির ছাড়েন। সেই থেকে এই ৬০০ বছর পর্যন্ত দিঘিতে কুমির ছিল। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কুমিরের দেখভাল করে আসছে। এই ইতিহাস ঐতিহ্য বাগেরহাটবাসীর। এখানে কুমির দেখতে সব ধর্মাবলম্বীরা আসে। ঈদের সময় প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ হাজার মানুষ আসে। কিন্তু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য কুমিরটি যেভাবে নিয়ে গেছে সেটা আমরা মোটেই ভালোভাবে দেখছি না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। আমরা চাই, অনতিবিলম্বে সরকার এবং প্রশাসন কুমিরটি ফিরিয়ে দিক।

সর্বশেষ - ঢাকা