দেশের ব্যাংকিং খাত নাজুক, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে স্থবিরতা। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষয়িষ্ণু ব্যবসায়িক আস্থার প্রেক্ষাপটে নানা চ্যালেঞ্জ তথা ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করলো নতুন বছর ২০২৬। দেশের ব্যবসায়ীমহল ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলে নতুন বছরে অর্থনীতি আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে। তবে দেশীয় ও বৈশ্বিক উভয় প্রেক্ষাপটে একাধিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারা বলেন, বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। বলতে গেলে, নতুন বছরে নানা চ্যালেঞ্জ। এ নিয়েই এবারের টাইমওয়াচ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন; লিখেছেন এ কে নাহিদ
দেশে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন সময়ের দাবি। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা ব্যতিত একটি রাষ্ট্র সঠিক পথে এগুতে পারে না। তাই শান্তিময় আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সঠিক গণতান্ত্রিক চর্চা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। সুস্থ ধারার রাজনীতি ব্যতিত দেশের মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারে না। সঠিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির অভাবে সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। রাজনীতির এই নেতিবাচক ধারা দেশের অর্থনীতিকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। তাই আগামীর নির্বাচিত সরকারকে সুষ্ঠ ধারার রাজনীতির চর্চা এবং চিহিৃত নানা সমস্যায় জর্জরিত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে যথাযথ নীতিমালা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। গতিশীল অর্থনীতি ও দেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নিতে এর কোনো বিকল্প নেই।
রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে চাপ
বৈশ্বিক শুল্ক ও বাণিজ্য পরিস্থিতি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা রপ্তানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। সময়ের পরিক্রমায় টানা পতনের ধারায় রয়েছে দেশের রপ্তানি খাত। নভেম্বরে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৪ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার। যদিও চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের ১৯ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। এই সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ। অভিজ্ঞমহলদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ আরোপের কারণে এই মুহূর্তে দেশের রপ্তানি আদেশে বড় ধরনের সংকট চলছে। এই সংকট দ্রুত সমাধান হবে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউরোপীয় বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ কমে গেছে। এর মূল কারণ হলো- যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের ফলে চীন ও ভারত ইউরোপের বাজারে ব্যাপকভাবে ঢুকে পড়েছে। ওই সব দেশ কার্যত ইউরোপীয় বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশের যে ট্র্যাডিশনাল বা নিয়মিত রপ্তানি বাজারগুলো ছিল, সেখানেই বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে বেশি চাপে আছে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ সংকট
রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমাতে পারে। ফলে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ। তবে প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস বাড়বে। নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নির্ভরযোগ্য শক্তি সরবরাহ অপরিহার্য। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মানসম্মত এবং অব্যাহত সরবরাহের অভাব বিনিয়োগের পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে, যা এই খাতে আস্থার গভীর সংকটকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। এর প্রভাব বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ স্থগিত রাখার প্রবণতায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর সময়কালে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির বিপরীতে খোলা ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি কমেছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এই পরিস্থিতি দেশের শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ গতি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ বা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণ- দু’টিই স্পষ্টভাবে অনুপস্থিত। স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনো উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যদি আস্থা ফিরে পান, তবে তা বিদেশি বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করবে।
ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা
দেশের ব্যাংকিং খাত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে ঋণ বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যাপক অর্থপাচারের কারণে খাতটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত অতীতের এই কার্যক্রমের প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলা করছে। ফলে ব্যাংক খাত ২০২৬ সালও অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। কারণ খাতটি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশে যে ধরনের সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে হচ্ছে তার মধ্যে সবচেয়ে তীব্র আঘাত এসেছে ব্যাংকিং খাত থেকে। ব্যাংকিং খাতে ভয়াবহ সংকট চলছে এবং ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ভূগছে এখানেই। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য ২০২৬ সালে ব্যাংকিং খাত সবচেয়ে বড় এজেন্ডা হয়ে দাঁড়াবে। সুদের হার, বিনিয়োগ- সবকিছুই এর সঙ্গে যুক্ত। সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তবে সরকার যদি এগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন না করে এবং আরও স্ট্যান্ডার্ডাইজ না করে তাহলে অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়তে পারে। এখানে কোনো শৈথিল্য দেখালে আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবো, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দারিদ্র্যের ঊর্ধ্বগতি
নতুন কর্মসংস্থানের স্থবিরতা ও আয় বৈষম্যের ফলে দারিদ্র্যের হার বেড়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নতুন এক হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের ২০২২ সালের গৃহস্থালি আয় ও ব্যয় জরিপে দারিদ্র্যের হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছিল।
জ্বালানি ও পরিবেশগত ঝুঁকি
জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণতা বৃদ্ধির মতো পরিবেশগত ঝুঁকিও অর্থনীতির কার্যক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নির্ভরযোগ্য শক্তি সরবরাহ অপরিহার্য। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মানসম্মত এবং অব্যাহত সরবরাহের অভাব বিনিয়োগের পথ বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তিনি বলেন, ২০২৬ সালে সরকারের উচিত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মান উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া। পাশাপাশি পরিবেশগত বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে, যা উৎপাদন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও কিছু পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে এটি কমে আসবে বলা হয়েছে, তবে বিভিন্ন সংস্থা মূল্যস্ফীতিকে একটি প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মূল্যস্ফীতি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে স্থায়ী চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে রয়েছে। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিরোনামমূলক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের ধীরগতির কারণে হয়েছে, অর্থনীতির অন্য খাতে মূল্যচাপের সামগ্রিক শিথিলতার ফল নয়। তিনি বলেন, যদিও এসময় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গৃহস্থালির জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে, তবুও এটি তেমন পর্যায়ের নয়। কারণ মজুরি বৃদ্ধির হার জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। নভেম্বর ২০২৫ সালে মজুরি সূচক ছিল ৮ দশমিক ০৪, যা অক্টোবর ২০২৫ সালের ৮ দশমিক ০১ এর তুলনায় সামান্য বেশি।
কোন পথে আশার আলো
দেশের অর্থনীতি বিভিন্ন সূচকে চাপের মুখোমুখি রয়েছে, তারপরেও কিছু ইতিবাচক সংকেত রয়েছে, যা ২০২৬ সালে পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, শক্তিশালী প্রবাসী আয়ের প্রবাহ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা। বর্তমানে রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। ফলে এই শক্তিশালী মজুত আমদানি বিল মেটাতে সহায়তা করবে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে আস্থা বাড়াবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা। ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এটি নভেম্বরের তুলনায় প্রায় ৩৪ কোটি ডলার বেশি এবং গত বছরের ডিসেম্বরে আসা ২৬৪ কোটি ডলারের তুলনায় ৫৯ কোটি ডলার বেশি। বিজিএমইএ সভাপতি হাতেম আলী বলেন, আমরা আশা করছি একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। ভালো একটি নির্বাচন হলে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে। পোশাক খাতের সংকটও কমবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে পোশাক খাত আরও ভালো করবে। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নতুন গতি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানও পুনরায় বাড়বে, যা নতুন সরকারের নেতৃত্বে দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়ক হবে। অন্যদিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হলে ২০২৬ সালে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের আস্থা এবং সামগ্রিক ব্যবসা পরিবেশের উন্নতি হবে বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রবণতা বিবেচনায় একটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হয়, রাজনৈতিক দিক থেকে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক বছর হতে পারে। অর্থনীতি ও রাজনীতি আলাদা হলেও বাস্তবে তারা গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত। যদি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি তুলনামূলকভাবে মসৃণ রাজনৈতিক উত্তরণ ঘটে তাহলে বর্তমানে যে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে, তা অনেকটাই কেটে যাবে।
শেষ কথা
নির্বাচিত সরকারকে নতুন বছরে চিহিৃত এই সব সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য জোড়ালো পদক্ষেপ নিতে হবে। আর এই সব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে- রাজনীতির আদর্শ যার যার, বাংলাদেশ সবার। এতে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে, বাংলাদেশও এগিয়ে যাবে। দেশের বৃহৎ স্বার্থে প্রত্যেকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। দেশের নেতার পরিবর্তন হবে; নীতির পরিবর্তন হবে না। তাহলেই এগিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি। পাশাপাশি দেশে সুশাসন নিশ্চিত হোক। নতুন বছরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতির স্থবিরতা কেটে যাক; এটিই আমাদের প্রত্যাশা।


















