১৭ এপ্রিল ২০২৬, এখন সময় সকাল ১০:৩৭ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি

প্রতিবেদক
এ কে নাহিদ
এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ৪:১৩ অপরাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। বলতে গেলে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি। এই নিয়েই এবারের টাইমওয়াচ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন; লিখেছেন এ কে নাহিদ

অর্থনীতির এইসব নতুন সংকটের ফলে মাইক্রো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়তে পারে। সরকারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সময়ের দাবি। পাশাপাশি আমাদের সকলকেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ
বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে টানা বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে জীবন ধারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। যার কারণে ঋণ করে চলতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়বে।
বিনিয়োগে দুর্বলতা
দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কম হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরো সতর্ক হয়ে উঠতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
রাজস্ব ঘাটতিতে চাপ
চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪.৫ শতাংশ। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ৫৯.৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার ফলে আর্থিক খাতে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও কমে যাচ্ছে। একই সময় মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে মূল্যস্ফীতির ওপর আরো চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বাংলাদেশের জ্বালানির বড় অংশ ওই অঞ্চল থেকে আমদানি করা হয়।
উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও উদ্বেগজনক ধীরগতি দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ২০ থেকে ২১ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রকল্প প্রস্তুতিতে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এর প্রধান কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বাড়লে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর ব্যয় আরো বাড়তে পারে, যা বাস্তবায়নের সময়ও দীর্ঘায়িত করতে পারে।
বৈদেশিক খাতে মিশ্র পরিস্থিতি
বৈদেশিক খাতে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে এবং প্রবাস আয়ও স্থিতিশীল রয়েছে। জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার। একই সময় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে রেমিট্যান্স প্রবাহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় ওই অঞ্চলের শ্রমবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে প্রবাস আয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ অঞ্চল বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ও শ্রমবাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়বে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, সেখানে অস্থিরতা বাড়লে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। পাশাপাশি আকাশপথ বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যয় বাড়বে এবং বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যুদ্ধ স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি- যে পরিস্থিতিই হোক না কেন, অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় সরকার পরিকল্পনা করছে।
সমাধান কোন পথে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক কমানোর মতো নীতিগত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অর্থনীতিতে কিছু সূচকে স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত থাকলেও ভেতরে ভেতরে একাধিক ঝুঁকি জমা হচ্ছে। রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগে দুর্বলতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি এরই মধ্যে অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের অভিঘাত যুক্ত হলে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় আন্তর্জাতিক অস্থিরতার ধাক্কায় দেশের অর্থনীতি আবারও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তাই একদিকে দেশের অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা, রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা, স্বাস্থ্য খাতে গভীর সংকট, শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের সামনে এক কঠিন সময়। ইতোমধ্যে সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যয় সংকোচনমূলক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমরা যদি সবাই সচেতন না হই, দায়িত্বশীল আচরণ না করি তাহলে এই সংকট মোকাবিলা করা কঠিন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম মূল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাস ও কয়লার সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই চাহিদার চেয়ে দ্বিগুণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে গ্রীষ্মের আগেই শুরু হয়েছে লোডশেডিং। এটি সহনীয় রাখতে জ্বালানি সাশ্রয়ে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসি (পিজিসিবি) সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট। এবারের গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। ফলে রাজধানীতে লোডশেডিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে ঢাকা শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেডিং বেশি হতে পারে। সামনে এই লোডশেডিং আরও বাড়বে। এই কারণেই আমাদের ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সচেতন এবং দায়িত্বশীল হলেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে- রাষ্ট্র একটা পরিবারের মতো। পরিবারে সংকট হলে সবাই যেমন একসাথে সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা করি, সবাই একটু করে কষ্ট স্বীকার করি, খানিকটা ত্যাগ স্বীকার করি, তেমনি এই পরিস্থিতিতে সব ভেদাভেদ ভুলে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, কৃচ্ছ্রতার মানসিকতা নিয়ে চলতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হবে। এ কথা ঠিক গত দেড় বছর যদি দেশ ঠিকমতো পরিচালিত হতো তাহলে আজকের এই সংকট এতো গভীর হতো না। ইউনূস সরকার দেশকে রীতিমতো দেউলিয়া করে বিদায় নিয়েছে। বেসরকারি খাতকে বিপর্যস্ত করে ঋণের পর ঋণ করে দেশ চালিয়েছে ইউনূস সরকার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। আর জুনের শেষে বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো বেসরকারি খাত। অথচ ইউনূস সরকারের শাসনামলে হাজার হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। লাখো শ্রমিক বেকার হয়েছে। নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে বড় বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের। দেশের অর্থনীতি আজ কংকালসার। বিদেশি ঋণ আর প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশ চলেছে। এখন ইরান যুদ্ধ রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নতুন করে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বর্তমান সরকারের জন্য। অন্তর্র্বতীকালীন সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগ নেয়নি। দেশের স্বার্থবিরোধী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বোঝা। হামের টিকা না দিয়ে দেশের শিশুদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে বিদায় নিয়েছে অন্তর্র্বতী সরকার। এইসব সংকট মোকাবিলায় এখন নির্বাচিত সরকারকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিভিন্ন অযৌক্তিক চুক্তি করে নতুন সরকারের হাত পা বেঁধে দিয়েছে অন্তর্র্বতীকালীন সরকার। ফলে সরকার দেশের স্বার্থে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতেও পারছে না। এভাবে সবক্ষেত্রে দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে চলে গেছেন ড. ইউনূস। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন এদেশের ছাত্র-জনতা। কিন্তু দেড় বছরে ড. ইউনূস এবং তার উপদেষ্টারা নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত ছিলেন।
সবশেষ কথা
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিগত সরকারের পাহাড়সম সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখতে হবে- দেশটা আমাদের সবার। এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাই এখন আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কারণ সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে, সাধারণ মানুষের সমস্যাই হবে সবচেয়ে বেশি। বিপন্ন হবে দেশের গণতন্ত্র। তাই এই মহাসংকট কাটিয়ে উঠার জন্য আমাদেরকে ধৈর্যের মাধ্যমে এগুতো হবে। তাই এইসব ঝুঁকি মোকাবিলা আমাদেরকেই করতে হবে। সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অর্থনীতি গতিশীল থাকবে; এটিই আমাদের সকলের ঐক্যের ভাবনা হোক।

সর্বশেষ - ঢাকা

আপনার জন্য নির্বাচিত