২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, এখন সময় বিকাল ৫:৫০ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

‘সবার আগে বাংলাদেশ’

প্রতিবেদক
পুলক কান্তি বড়ুয়া
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক অবদানকে একদল নিজেদের একচ্ছত্র রাজনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করেছে। অন্যদিকে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে আরেকটি শক্তি নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। ফলে ‘ইতিহাস ও বিশ্বাস’ এই দুই মহামূল্যবান উপাদানই বহু সময় রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। এতে জাতির ভেতরে বিভাজনের রেখা আরও গভীর হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ এই দেশের সমগ্র জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম। এটি কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। একইভাবে ধর্ম মানুষের আত্মিক শক্তির উৎস; সেটিও রাজনৈতিক সুবিধাবাদের মোড়কে বন্দী হওয়ার কথা নয়। যখন ইতিহাসকে একচেটিয়া মালিকানার ভাষায় উপস্থাপন করা হয় এবং ভিন্নমতকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে আখ্যা দেওয়া হয়, তখন গণতন্ত্র সংকুচিত হয়। আবার যখন ধর্মকে সরাসরি রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে বসানো হয়, তখন প্রকৃত ধর্মচর্চাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এই দ্বিমুখী রাজনীতির ফলে দেশ দুই মেরুতে বিভক্ত হয়েছে, চেতনা বনাম বিশ্বাসের কৃত্রিম সংঘাতে। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে মনে করেন যে, জাতীয় রাজনীতির মূলধারায় একটি মধ্যপন্থী, উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ধারার প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে পরিচয়ের আগে ‘বাংলাদেশ’ হবে সবার অভিন্ন পরিচয়। এই ধারণা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিজকে বহুমতের সমন্বয়কারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি জীবদ্দশায় জাতীয়তাবাদী দর্শনের কথা বলেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতা নিয়ে বর্তমানে তারেক রহমানকে ঘিরে সমর্থকদের একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যেখানে অতীতের গৌরবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ভবিষ্যতের কর্মসূচিভিত্তিক রাজনীতি গড়ে তোলা হবে।
রাজনীতি যদি কেবল উত্তরাধিকারভিত্তিক স্মৃতিচর্চায় আবদ্ধ থাকে, তবে তা সৃজনশীল রাষ্ট্রগঠনের পথ রুদ্ধ করে। প্রয়োজন কর্মমুখী, নীতিনির্ভর ও সৃজনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্নমত শত্রুতা নয় বরং শক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। ইতিহাসের মর্যাদা থাকবে, ধর্মের সম্মান থাকবে, কিন্তু কোনোটি বিভাজনের অস্ত্র হবে না।
আজকের চ্যালেঞ্জ হলো- অর্থনৈতিক মুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পুনর্গঠন। জনগণ এমন এক রাজনৈতিক ধারার প্রত্যাশা করে যা প্রতিহিংসা নয়, প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়ন ও নীতিগত স্বচ্ছতার মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের রাজনীতির সামনে এখন সেই সুযোগ, বিভাজনের অতীত থেকে বেরিয়ে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমভিত্তিক নতুন সংস্কৃতি নির্মাণের। তাইতো সবার মন-মানসিকতায় জেগে উঠুক- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

সর্বশেষ - ঢাকা