বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক বর্ণিল অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ৯১ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি অভিনেত্রী ও প্রাণী অধিকারকর্মী ব্রিজিত বার্দো। ষাটের দশকে যিনি রূপালি পর্দায় গ্ল্যামার, সাহসিকতা ও স্বাধীন নারীর প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাঁর প্রয়াণে বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
ব্রিজিত বার্দো ছিলেন শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী নন; তিনি ছিলেন একটি সময়ের মুখ। তাঁর সৌন্দর্য, ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় ভেঙে দিয়েছিল প্রচলিত ছক। ফরাসি সিনেমাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিতে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অথচ অবাক করা সত্য হলো—ক্যারিয়ারের একেবারে সাফল্যের শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নেন রূপালি পর্দা থেকে।
মাত্র ৫০টি সিনেমায় অভিনয় করার পর ১৯৭৩ সালে, বয়স তখন মাত্র ৩৯, অভিনয় থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ব্রিজিত বার্দো। এই সিদ্ধান্তে তখন বিস্মিত হয়েছিলেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও চলচ্চিত্র মহল। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল ও দৃঢ়। অভিনয় ছাড়ার সময় তিনি উচ্চারণ করেছিলেন এক কালজয়ী উক্তি—‘আমি আমার যৌবন এবং সৌন্দর্য মানুষকে দিয়েছি, এখন আমার জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা প্রাণীদের দেব।’
এই উক্তিই যেন তাঁর জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ের দিশা নির্ধারণ করে দেয়। সিনেমার ঝলমলে আলো ছেড়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে সঁপে দেন অবলা প্রাণীদের সেবায়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ব্রিজিত বার্দো ফাউন্ডেশন’, যা বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীদের সুরক্ষা এবং অধিকার আদায়ের জন্য বিশ্বজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে। জীবনের বাকিটা সময় তিনি উৎসর্গ করেছিলেন প্রাণী কল্যাণের লড়াইয়ে—ক্যামেরার সামনে নয়, নীরব সংগ্রামের ময়দানে।


















