৭ জানুয়ারি ২০২৬, এখন সময় ভোর ৫:১৯ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

বিনিয়োগ স্থবিরতায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি আরো তলানিতে

প্রতিবেদক
স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

নভেম্বর মাসে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৬.৫৮ শতাংশ। টানা ছয় মাস ধরে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে আটকে আছে। উচ্চ সুদহার, দুর্বল চাহিদা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

টানা ছয় মাস ধরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের নিচে আটকে থাকায় দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর শেষে এই প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৬.৫৮ শতাংশে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রারও নিচে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধীরগতি নতুন বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থান, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “নতুন বিনিয়োগ না হলে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের চাহিদাও বাড়ে না। বর্তমান ঋণ প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে, দেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও সম্প্রসারণমূলক বিনিয়োগ খুবই সীমিত। বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর। ‘যত কম বিনিয়োগ হবে, বেকারত্ব তত বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শ্লথ হবে’ বলে মনে করেন তিনি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত নভেম্বরে এক লাখ ৭৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হয় বেসরকারি খাতে। তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে এ খাতের ঋণ ৬.৫৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও গত মাস অক্টোবরে বসরকারি খাতে ঋণ প্রবদ্ধি ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৬.২৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির দায় নিষ্পত্তি ১৬ শতাংশের বেশি কমেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি নতুন বিনিয়োগ স্থবিরতারই একটি শক্ত প্রমাণ। ব্যাংকাররা বলছেন, উচ্চ সুদহার, দুর্বল চাহিদা ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে কেউ ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করবে না। বর্তমানে যে ‘মব কালচার’ তৈরি হয়েছে, তা মোটেও ব্যবসাবান্ধব নয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশি-বিদেশি কোনো বিনিয়োগই আসবে না। ৫০ কোটি টাকার মেশিন এনে যদি তিন বছর ঠিকভাবে চালাতেই না পারি, তাহলে লোকসান কতটা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।”

ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে বা সীমিত পরিসরে চলছে। নাসা, বেক্সিমকো, গাজীর মতো শিল্পগোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি কারখানা পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোও আগের তুলনায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম উৎপাদনে চলছে।

পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নির্বাচনের পর ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক হলে বিনিয়োগ বাড়বে। বিনিয়োগ বাড়লেই ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়বে।’

বর্তমানে ব্যাংকঋণের সুদহার ১৫-১৬ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যবসায়ীদের মুনাফা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এই সুদহারে নতুন বিনিয়োগ কার্যত অসম্ভব।

ব্যবসায়ীরা গ্যাসসংকটের কারণে কারখানা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছেন না। এ সমস্যা বেশ কয়েক মাস ধরে তীব্র সংকট তৈরি করছে। তাতে দিনশেষে ব্যবসায়ীরা যা উৎপাদন করতে চাচ্ছেন, তা পারছেন না। বছর শেষে অনেক ব্যবসায়ীকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। আর গ্যাসসংকট মোকাবেলা করতেও সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকারকে অনেকবার বলা হলেও সমাধান পাননি। ফলে নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ হচ্ছেও কম।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘নতুন ব্যবসা করতে গেলে গ্যাস ও বিদ্যুতের এক রকমের সংকট রয়েছে। বিনিয়োগ করার আগে আমাকে চিন্তা করতে হচ্ছে যে আমি গ্যাস পাব কি না। সরকার বর্তমানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আমার নিজের কারখানা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে করতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে বেশি লাগার কারণে খরচ বেশি লেগেছে, তাতে মুনাফার ওপর এক রকম প্রভাব পড়েছে।’

বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলো এখন ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো এই নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে সরকারও ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো থেকে প্রচুর ঋণ নিচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত হওয়ায় ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করে প্রায় ১১ শতাংশ সুদ পাচ্ছে, যা কার্যত শতভাগ নিরাপদ। বর্তমানে অনেক প্রচলিত ব্যাংকের আয়ের বড় একটি অংশ আসছে এই খাত থেকে।

২০২৫ সালের শুরুতে যদিও আমানতের সুদহার বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ঋণের দুর্বল চাহিদা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি ভিন্নভাবে ফুটে উঠেছে।

সর্বশেষ - আইন-আদালত