১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, এখন সময় রাত ১০:২৪ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

১৭তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিবেদক
ডেস্ক রিপোর্টার
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গতকাল মঙ্গলবার দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারম্যান ১১তম ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন। ত্রয়োদশ সংসদের নেতা তারেক রহমান দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমপির সমর্থনে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন।

বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুদিন পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

১৯৭৫ সালে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলোপ করে একদলীয় শাসন বাকশাল কায়েম করে রাষ্ট্রপতি হন শেখ মুজিব। প্রধানমন্ত্রী পদে বসেন আওয়ামী লীগ নেতা এম মনসুর আলী। একই বছরের ১৫ আগস্ট সেনা অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর প্রায় চার বছর প্রধানমন্ত্রীর পদ শূন্য ছিল।

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে ১৯৭৮ সালের মার্চে প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদায় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন মসিউর রহমান যাদু মিয়া। পরের বছর সংসদ নির্বাচনের পর ১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন শাহ আজিজুর রহমান।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক শাসন জারি করে ক্ষমতা দখল পর্যন্ত পদে ছিলেন শাহ আজিজ। এরপর দুই বছর শূন্য থাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ। ১৯৮৪ সালের ৩ মার্চ এই পদে আসেন আতাউর রহমান খান। ১৯৮৬ সালের ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মিজানুর রহমান চৌধুরী। এরপর এরশাদের সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মওদুদ আহমদ ও কাজী জাফর আহমদ।

১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পরের মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খালেদা জিয়া। তখনও দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ছিল। গণভোটের রায়ে একানব্বইয়ের সেপ্টেম্বরে দেশ ফেরে সংসদীয় গণতন্ত্রে। আবার শপথ নেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনে স্বল্প মেয়াদে আবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর শেষবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। মেয়াদপূর্তি শেষে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি বিদায় নেওয়ার পর ওয়ান-ইলেভেনের কারণে দুই বছর শূন্য থাকে প্রধানমন্ত্রীর পদ। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনা করে।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা; বাতিল করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। নিজের অধীনে বিতর্কিত টানা তিন নির্বাচনে– ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে দায়িত্ব নেন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জয়ী তারেক রহমান।

১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। পাঁচ দিন পর তাঁর মা খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। এতে নিশ্চিতই ছিল– বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী।

৫৯ বছর বয়সী তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হওয়ার মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে নেপথ্যে থেকে বিএনপির কাজ করেন। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমান প্রকাশ্য হন ২০০২ সালে; জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে আসার মাধ্যমে।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। ১৮ মাসের কারাবাস শেষে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সে সময় দেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল।

প্রবাসে থাকাকালে তারেক রহমানই দলের নীতি-কৌশল ঠিক করতেন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই অভ্যুত্থানে তিনি প্রবাস থেকেই বিএনপিকে নেতৃত্ব দেন।

সর্বশেষ - ঢাকা