ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির জেরে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
৩ আগস্ট মধ্যরাতে দফায় দফায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ এবং মঙ্গলবার দুই সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণার জেরে ১৪৪ ধারা জারির এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির জন্য লিখিত আবেদন করেছিলেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার ইসলামী ছাত্র শিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গুরুতর আহত পাঁচজনসহ ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন।
তারা রংপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের প্রধান গেইটে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একই জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা সমাবেশের ডাক দেওয়ায় ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে।
স্থানীয়রা জানান সোমবার সন্ধ্যায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির-ছাত্রদলের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
শিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষ উপলক্ষে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রোগ্রাম করার আগে প্রশাসনের থেকে অনুমতি নিয়ে শুরু করেছি। হঠাৎ করে ছাত্রদলের কিছু কর্মী আমাদের ব্যানার সরাতে বলে। আমরা সরাতে আপত্তি করলে তারা হামলা করে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবিরের প্রোগ্রামে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি থাকায় আমরা সেটিকে সরাতে বললে শিবিরের ছেলেরা আমাদের ওপর হামলা করে। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন আহত হয়।
এদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, দুই পক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সিসিটিভি দেখে দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে আর কোনো সময় কেউ কোনো ধরনের অন্যায় বা মারামারির সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।


















