৩০ আগস্ট ২০২৫, এখন সময় রাত ৪:৪০ মিনিট
শিরোনাম
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. কৃষি
  6. খুলনা
  7. খেলাধূলা
  8. গণমাধ্যম
  9. চট্রগ্রাম
  10. জাতীয়
  11. ঢাকা
  12. তথ্য-প্রযুক্তি
  13. ধর্মতত্ত্ব
  14. প্রকৃতি-পরিবেশ
  15. প্রবাস জীবন

সংকট কাটেনি ব্যাংকিং সেক্টরে

প্রতিবেদক
এ কে নাহিদ
আগস্ট ২৮, ২০২৫ ৫:১০ অপরাহ্ণ

দেশের ব্যাংক খাত চরম এক সংকটময় পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক থেকে নেওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ বছরের পর বছর ফেরত না দিয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে দেশের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ আমানতকারী ও দেশের ব্যাংক খাতসহ দেশের পুরো অর্থনীতির ওপর। অর্থনীতির বুকে দীর্ঘদিন ধরে চেপে বসে থাকা এক অদৃশ্য বোঝা হয়ে উঠেছে খেলাপি ঋণ। সংকটকালে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেও এই অবস্থা থেকে উত্তোরণ ঘটছে না। খেলাপি ঋণ রয়ে গেছে গলার কাঁটার মতো, যা দেশের আর্থিক কাঠামোকে নাজুক ও অনিরাপদ করে তুলেছে। বলতে গেলে সংকট কাটেনি ব্যাংকিং সেক্টরে। এ নিয়েই এবারের টাইমওয়াচ প্রচ্ছদ প্রতিবেদন; লিখেছেন এ কে নাহিদ
গত বছরের আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিনের লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণ ও ক্ষতির হিসাব প্রকাশ পেতেই ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা কমে গেছে। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে মূলধন সংরক্ষণের হার (সিআরএআর) নেমে আসে মাত্র ৩ দশমিক ০৮ শতাংশে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত পরিমাণের অর্ধেকেরও কম। চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। অর্থাৎ চার ভাগের এক ভাগেরও বেশি ঋণ আদায়যোগ্য নয় বলে চিহ্নিত হয়েছে। অথচ গত পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা; যা দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করেছে। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আরো ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। ১ হাজার ৮৬ জন ঋণগ্রহীতার ২৭ হাজারেরও বেশি ঋণ নিয়মিত দেখাতে হচ্ছে, সেগুলো আদায়ও হচ্ছে না। এই অর্থকেও যদি খেলাপি ধরা হয়, তাহলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা; যা দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের মোট ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ।
খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির চিত্র
২০২১ সালের ডিসেম্বর : ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৪ কোটি (মোট ঋণের ৭.৯৩ শতাংশ); ২০২২ সালের ডিসেম্বর : ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি (৮.১৬ শতাংশ); ২০২৩ সালের ডিসেম্বর : ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৩ কোটি (৯ শতাংশ); ২০২৪ সালের ডিসেম্বর : ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি (২০.২ শতাংশ); ২০২৫ সালের জুন : ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি (২৭.০৯ শতাংশ)। এই থেকে স্পষ্ট, মাত্র আড়াই বছরের মধ্যে (২০২২ থেকে ২০২৫) খেলাপি ঋণ বেড়েছে চারগুণেরও বেশি।
খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ
অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কিছু কারণ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো- ভুয়া ও নামহীন প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ পাওয়া ও আদায় না করা। ঋণ নবায়নের নামে দায় এড়ানো। বৃহৎ ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর অর্থপাচার। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা প্রদান।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র মতে, একাধিক ব্যাংক বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
লুকানো খেলাপি ঋণের চিত্র
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আরো ১ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে দেখানো যাচ্ছে না। ১ হাজার ৮৬ জন ঋণগ্রহীতার ২৭ হাজারেরও বেশি ঋণ নিয়মিত দেখাতে হচ্ছে, সেগুলো আদায়ও হচ্ছে না। এই অর্থকেও যদি খেলাপি ধরা হয়, তাহলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা; যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের প্রায় ৩৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি বলেছেন, খেলাপি ঋণের কোনো তথ্য আর লুকিয়ে রাখা হবে না। এটা আদায় জোরদারের মাধ্যমে কমানো হবে। নতুন করে বিতরণ করা ঋণ যেন খেলাপি না হয় সেজন্য বিভিন্ন আইনি কঠোরতা আনা হচ্ছে। মূলত বিগত সময়ে কয়েকটি গ্রুপ ঋণের নামে বিপুল অর্থ বের করে নিয়েছে। যাদের বেশিরভাগই এখন পলাতক।
ধার করেও আর্থিক সংকট কাটছে না
দেশে একীভূতকরণের আলোচনায় রয়েছে এমন কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক তীব্র আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যাংকের গ্রাহকরা নিজেদের জমানো টাকা তুলতে পারছেন না। নানা তালবাহানা আর অজুহাত দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন গ্রাহকগণ। তাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক হতে এসব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বড় আকারে তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক গঠনের পরিকল্পনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ব্যাংকের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং মার্জার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসেনি। জুন মাসেও আমানতে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের নিচে ছিল। স্বাভাবিক সময়গুলোতে ৯ থেকে ১০ শতাংশ বা তার বেশি হারে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আমানত বৃদ্ধি পেত। ২০২৪ সালের জুনে আমানতে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ ছিল। এরপর থেকেই এই প্রবৃদ্ধি ক্রমাগত নিম্নমুখী ধারায় আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকে তারল্য সংকট কমাতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জুলাইয়ে রেকর্ড পরিমাণে বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ওই মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়। জুনে বিশেষ তারল্য সহায়তা বাবদ দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত দেওয়া বিশেষ তারল্য সহায়তার মধ্যে গত জুলাইয়ে দেওয়া সহায়তাই সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ক্ষত আরো প্রকট হচ্ছে। যে কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এখন ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান খারাপ হচ্ছে। এর বিপরীতে তারল্য সংকট বাড়ছে। তারল্য সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো যেমন আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না, তেমনই গ্রাহকদের চাহিদামতো ঋণও বিতরণ করতে পারছে না। আগে বিতরণ করা ঋণ খেলাপি হওয়ায় এবং নতুন ঋণ বিতরণ কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর আয়ও কমে যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারছে না। তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কিছু বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত সংগ্রহ আগের সময়ের তুলনায় রেকর্ড গড়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের প্রভাব পড়ছে পুরো ব্যাংক সেক্টরে। কিছু ব্যাংক খেলাপি আদায়, ঋণ বিতরণে ভালো করলেও সার্বিক চিত্রে উঠে আসছে না। ইতোমধ্যে দুর্বল পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক মিলে একটি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার রূপরেখার খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকের আমানত ধারাবাহিকভাবে কমে গত মে পর্যন্ত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকায় নেমেছে। গত বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট আমানত ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। আর গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছিল ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। মোট ঋণের যা প্রায় ৭৭ শতাংশ। বিপুল অঙ্কের এই খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা সঞ্চিতির ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোই একীভূতকরণ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। যে কারণে নতুন ব্যাংককে নানাভাবে সহায়তা এবং ছাড় দেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণের চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে আমানতকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।
হুমকিতে আগামীর পথ চলা
দেশের বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, খেলাপি ঋণ যদি এভাবে বাড়তেই থাকে তবে আমানতকারীরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারাবে। এই বিষয়ে গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম. হেলাল আহমেদ জনির ভাষ্যমতে, ‘প্রভিশন ঘাটতি বাড়ায় ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা হুমকিতে পড়বে। নতুন ঋণ বিতরণেও ব্যাংকগুলো ঝুঁকি নিতে চাইবে না, ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ হ্রাস পাবে। অর্থনীতি জুড়ে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।’ খেলাপি ঋণের এই লাগামহীন বৃদ্ধিতে দেশের ব্যাংক খাত এখন এক গভীর সংকটে। গত ৫ বছরে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি শুধু অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকেই নয় বরং আমানতকারীদের আস্থাকেও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, লুকানো তথ্য এখন বেরিয়ে আসছে। বর্তমানে খেলাপি হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের ভাষ্যমতে, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতো না (আগে), এখন ঋণ খেলাপির সঠিক চিত্র বেরিয়ে আসছে। আবার দেশের সম্পদ ও বাইরে পাচার হওয়া সম্পদ ফেরাতেও কাজ চলমান। পাচার অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিকভাবে আইনজীবী নিয়োগসহ নানান কাজ হচ্ছে। আশা করতেই পারি ভালো কিছু হবে।
পাচার অর্থ ফেরত আনতে জটিলতা
বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগ করেছে। তবে অর্থ ফেরানোর পথ সহজ নয়। বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের ভাষ্যমতে, যে দেশে টাকা গেছে, সেই দেশের সরকার সহযোগিতা করলে ফেরত পাওয়া সম্ভব। না হলে প্রায় অসম্ভব। তবে পাচারকারীর সম্পদ জব্দ করা গেলে একটা শক্ত বার্তা যাবে যে এসব করে কেউ লাভবান হতে পারবে না।
সমস্যা ও সমাধানে করণীয়
অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকদের মতে, খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের ভাষ্যমতে, ঋণ পুনঃতফসিলের নামে দায় এড়ানোর পথ বন্ধ করতে হবে। পাচার অর্থ ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে হবে। সরকারি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এছাড়াও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর হতে হবে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে যাচাই-বাচাই করতে হবে। ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে যাতে ঋণ নিতে না পারে সেই ব্যাপারেও সচেষ্ট হতে হবে। সর্বোপরি মনিটরিং এবং জনসেচেতনতা বাড়াতে হবে। ব্যাংকিং সেক্টরের বর্তমান সংকট কাটিয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হোক; এটিই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা।

সর্বশেষ - আইন-আদালত